মার্কিন হামলার হুমকিতে টালমাটাল অবস্থায় তেহরান। কিন্তু এর মাঝেও ভ্রাতৃসম দুই প্রতিবেশি দেশের সংঘাত নিরসনে এগিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি শহরে আজ শুক্রবার হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন।
এই হামলায় অন্তত ১৩৩ তালেবান সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে এমন দাবি করেন।
এই পরিস্থিতিতে কাবুল-ইসলামাবাদের সংঘাত নিরসনে এগিয়ে আসার প্রস্তাব রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী মুসলিম দেশ ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে এবং তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সম্প্রসারণ ঘটাতে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত।’
তবে মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে বড় ধরনের চাপের মুখে আছে ইরান। বারবার ‘চুক্তিতে রাজি না হলে হামলার’ হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে দুইটি রণতরীসহ সমীহ জাগানিয়া সেনা মোতায়েন করে ইরানের নেতৃবৃন্দকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি ফেরাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’ সভায় এক সম্ভাব্য অশান্তির প্রস্তাব দিয়ে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প। তিনি তেহরানকে সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য ‘১০ দিনের’ সময় বেঁধে দেন। তা না হলে ‘ফলাফল’ ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন।
এর মাঝে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠকে অংশ নিয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরান। ওই বৈঠক ‘ইতিবাচক’ হলেও এখনো পরমাণু চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে পাগলাটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলা করে বসতেও পারেন। সে সময় দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর ‘ঝগড়া’ থামাতে কতটুকু উদ্যোগ নিতে পারবে ইরান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।