ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানা (৩৪) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা ।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দিপু চন্দ্র দাসকে ফ্যাক্টরীর ফ্লোর থেকে গার্ড রুমে নেওয়ার সময় মারধর করে। ফ্যাক্টরীর কর্মীদের ভিতরে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি, লাশের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন এবং উপস্থিত জনতাকে স্লোগান দিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোতে উৎসাহিত করে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, দিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে কারখানার ভেতরে একদল শ্রমিক দিপুকে মারধর শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা দিপুকে কারখানার বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মরদেহ আংশিক পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরদিন নিহতের ভাই ভালুকা থানায় ১৪০–১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।