মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান।
গতকাল বুধবার ইরানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র দক্ষিণ পার্সে হামলার পর পাল্টা জবাবে আজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি দেশে চারটি জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এর প্রভাবে আজ সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে থাকে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়ে ১১৯ ডলারে পৌঁছায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০ ডলারের বেশি বেড়ে ১১৯ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছায়, যা প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এপি জানায়, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত ১৯ দিনে বিশ্ব বাজারে ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম।
ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম প্রায় সাড়ে ৭ ডলার বা ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম বেড়ে ৯৬ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এর আগে তা ১০০ ডলার অতিক্রম করেছিল।
বর্তমানে ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্টের দামের ব্যবধান ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সাউথ পার্সে ইসরায়েলের হামলায় স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়।
এর পাল্টা জবাবে আজ সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’র বরাতে এপি জানায়, রাস লাফান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি ও মিনা আবদুল্লাহ নামে দুটি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আগুন ধরে যায়।
লোহিত সাগরের তীরে ইয়ানবু বন্দরে সৌদি আরামকোর সামরেফ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে সাময়িকভাবে তেল লোডিং ব্যাহত হলেও পরে তা পুনরায় চালু হয়েছে।
সৌদি আরবে আরও একটি গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালালেও তা প্রতিহত করে দেশটি।