পর্যাপ্ত মজুত এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয় বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়ে গেছে।
গত তিন-চার দিনে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে প্রায় মাসখানেক ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘বেশি দাম দিতে চাইলেও বোতলে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’
জাকিরের দোকানে সপ্তাহে ২০০ লিটার তেলের চাহিদা থাকে। এর বিপরীতে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ১০০ লিটার।
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারেও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় এই মূল্যবৃদ্ধি।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত এক সপ্তাহে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম মণপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল ৭ হাজার ১৭০ টাকায় এবং পাম তেল ৬ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে তেল সরবরাহ কমিয়েছে।
ইতোমধ্যে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম নগরে গত চার দিনে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় ৭ টাকা বেড়ে ২০০ থেকে ২০২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর খোলা পাম তেলের দাম কেজিতে প্রায় ৬ টাকা বেড়ে ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বোতলে সয়াবিন তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে খুলনাতেও। সেই সঙ্গে বেড়েছে দাম। আগে পাঁচ লিটারের যে বোতল ৯৯০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন প্রায় ১ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১ লিটারের বোতলের দাম ১৮৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়েছে।
একই চিত্র বরিশালেও। নগরীর মুদি দোকানি মাহতাব আকনও তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কথা জানান।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ‘ফ্রেশ’ ব্র্যান্ডের তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. হাসান বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’
আরেক শীর্ষস্থানীয় ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপও একই দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক পরিমাণেই তেল সরবরাহ করছি। সরবরাহের ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে।’
এর পরও খুচরা বাজারে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন বিশ্বজিৎ সাহা। তিনি বলেন, মূল সমস্যা হলো ঢাকার বাইরে পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব, যা মূলত ডিজেল সংকটের কারণে তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্বীকার করেছেন যে কিছু এলাকায় প্রান্তিক বা খুচরা পর্যায়ে ঘাটতি থাকতে পারে। তিনি বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাজার তদারকি জোরদার করা হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন খুলনা প্রতিনিধি দীপংকর রায় ও বরিশাল প্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষ]