দেশের নির্ধারিত পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে গত ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলা খালের আশপাশের গ্রামগুলোর প্রায় ২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের তাই জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এই জেলে পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা করে থাকে। তবে এবার এখনো তাদের কাছে পৌঁছেনি ত্রাণের চাল।
এখানকার জেলেরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারকে। অনেকেই ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আসন্ন ঈদের খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তারা।
গ্রামের ইলিশ জেলে সালাহউদ্দিন মাঝি জানান, দুটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে আমাকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। টাকা না থাকায় কিস্তি পরিশোধ করার জন্য আমাকে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সেলিম হাওলাদারের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।’
‘পাঁচজনের পরিবার আমার, বাচ্চারা স্কুলে যায়। আমরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছি না, আর ঋণ শোধ করার মতো টাকাও নেই। আমরা জানি না কীভাবে বাঁচব,’ যোগ করেন তিনি।
এনজিও থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ রয়েছে আরেক জেলে রহিম মাঝির। সপ্তাহান্তে শোধ করতে হয় কিস্তির ৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
রহিম বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি কিস্তি দিতে পারিনি। এরপর কী হবে তা নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।’
এখাানকার অধিকাংশ জেলেই এনজিও’র ঋণের ওপর নির্ভরশীল। দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় তারা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
‘এই পরিস্থিতিতে সরকারকে জেলেদের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত,’ বলেন রহিম।
শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল মেম্বার বলেন, ‘এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জেলে বাস করলেও এখনো গ্রামটিতে কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পৌঁছেনি।’
মনপুরা ও চরফ্যাশনসহ অনেক দূরবর্তী এলাকারও একই অবস্থা বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
বরিশাল বিভাগীয় জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত বলেন, ‘বিভাগের অনেক জায়গায় এখনো ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়নি। আমরা দ্রুত চাল বরাদ্দ ও প্রতিটি জেলে পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ১০০ কেজি চাল দেওয়ার দাবি জানাই।’
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, ‘জেলায় মোট ৯০ হাজার ২০০ জেলে দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি করে ভিজিএফের চাল পাবেন।’
‘আমরা চেষ্টা করছি যেন ঈদের আগেই জেলেদের কাছে চাল পৌঁছে যায়,’ বলেন এ কর্মকর্তা।