ভোটের পরে আপত্তি উঠে, এটা আমাদের ইতিহাস-কালচার: সিইসি

Date:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘ভোটের নানাবিধ আপত্তি থাকতেই পারে। এই আপত্তিটা হয় সাধারণত ভোট যখন সুন্দর হয়, ভোটের পরে আপত্তিটা উঠে। এটা আমাদের ইতিহাস, আমাদের কালচার।’

রাজধানীর নির্বাচন কমিশন অডিটোরিয়ামে আজ সোমবার দুপুরে এ কথা বলেন সিইসি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘সমতা নিশ্চিত করি, নারী পুরুষ মিলে ভবিষ্যত গড়ি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি—৯১ সালে দেখেছি, ৯৬ সালে দেখেছি—সূক্ষ্ম কারচুপি, অমুক-তমুক হয়েছে বলে আপত্তি ওঠে ভোট হয়ে যাওয়ার পরে। যখন একটা সুন্দর ভোট হয়ে যায়, আপত্তিগুলো উঠে ভোট হয়ে যাওয়ার পরে।’

ইউএনডিপি ও গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে ওয়াদা জাতির কাছে করেছিলাম, সেই ওয়াদা ডেলিভার করতে পেরেছি। আমি মোবারকবাদ জানাই, একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি আপনাদের সহযোগিতায়।’

ভোটের কালি এখনো তার হাতে আছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমি অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, শত শত মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি। ইলেকশনের দিন ভোট দিতে পারিনি—এ কথা কেউ আমাকে বলেননি। সবার হাতের দিকে তাকাই আমি। হাতের কালি আছে, আমারটাও এখনো আছে।’

ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমি যখন ইলেকশন সেন্টারগুলো ভিজিট করেছি, স্পেশালি উইমেনদের জিজ্ঞেস করেছি, ইফ দে ফেস এনি প্রবলেম। এভ্রিবডি সেইড নো। তারা বলেছেন, কোনো বাধা-বিপত্তি তারা ফেস করেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমি মাইনরিটি কমিউনিটির অনেককে জিজ্ঞেস করেছি এবং লাইনে দাঁড়ানো লেডিদের জিজ্ঞাসা করেছি, আপনারা কি কোনো সমস্যা ফেস করেছেন সেন্টারে আসতে? তারা বলেছেন, এগুলো ফেস করেননি। আমি একজনকেও বলতে শুনিনি যে ভোট দিতে পারেননি বা অসুবিধা ফেস করেছেন বা ভোটের সেন্টারে গোলমাল হয়েছে, তাড়িয়ে দিয়েছে।’

সিইসি বলেন, ‘আমাদের কতজন প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ফিমেল ছিলেন, আর কতজন পুরুষ ছিলেন—এই হিসাবটা আমাদের করার দরকার আছে। কারণ, যে কয়জন প্রিসাইডিং অফিসার সম্পর্কে আমাকে পোস্ট ইলেকশন কমপ্লেন করেছে, আমি যে কয়টা নাম পেয়েছি, সবগুলো পুরুষ। ক্যান্ডিডেটের পক্ষে কাজ করেছে, খাতির করেছে যেসব সেন্টারে, যেগুলো আমার কাছে এসে অবজেকশন দিয়েছে, সবগুলো পুরুষের নাম। কোনো মহিলার নাম কিন্তু আমি পাইনি।’

নারীদের অবদান খাটো করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নারীদের অবদান যদি জিডিপিতে মনিটাইজ করা হয়, টাকার অংকে হিসাব করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের জিডিপি তিন গুণ হয়ে যাবে। নারীদের কন্ট্রিবিউশন কোনো মতেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা কিন্তু মুখে বলি, বাট আমাদের বিহেভিয়ারাল প্যাটার্নের মধ্যে এটা নেভার রিফ্লেক্টেড।’
 

Popular

More like this
Related

ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে: যেভাবে এলো হলুদ ও লাল কার্ড

ফুটবল মাঠে রেফারির পকেট থেকে হলুদ বা লাল কার্ড...

খাল পুনঃখনন হলে বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,...

সংস্কারের বিপক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয়...

ভোট দিয়েছেন বলেই চাঁদাবাজি-দুর্নীতির লাইসেন্স দেইনি: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেছেন,...