ভারতের পূর্বাঞ্চলে একটি সরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মৃতদের সকলেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আজ সোমবার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ভারতের গণমাধ্যম স্টেটসম্যান।
ভারতে যথোপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের অভাব ও নিরাপত্তা নীতিমালার প্রতি অবহেলার কারণে দালানগুলোতে নিয়মিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটে।
ওডিশা রাজ্যের কটক শহরের এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দোতলায় সোমবার সকালে (রোববার দিবাগত রাত) আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের গণমাধ্যম স্টেটসম্যান জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা মোহন চরণ মাঝি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ট্রমা আইসিইউ ওয়ার্ডে আগুন ধরে যায়। সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।’
ঘটনার সময় হাসপাতালের দোতলায় ২৩ জন রোগী উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অগ্নিকাণ্ডে তাদের মধ্যে ১০ জনের প্রাণহানি হয়। বাকিদের অন্যান্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোগীদের উদ্ধার করতে যেয়ে অন্তত ১১ কর্মী দগ্ধ হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ আখ্যা দেন এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি প্রত্যেক নিহতদের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পাশাপাশি, তিনি এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, কারো অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দুই লাখ রুপি ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতে অগ্নি দুর্ঘটনার মূল কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট।
২০২৪ সালে তামিলনাড়ুর এক বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ছয় জনের প্রাণহানি ও ১২ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
একই বছরে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশের একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১০টি নবজাতক শিশু মারা যায়।