গত ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া ‘অদম্য বাংলাদেশ টি২০ কাপ’-এর পর বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা এক বিরল দীর্ঘ অবসর সময় উপভোগ করছেন। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার ক্ষত এখনো টাটকা হলেও, বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই এই বিরতিটি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করছেন। তাদেরই একজন, ২৪ বছর বয়সী পেসার শরিফুল ইসলাম, চলমান বিশ্বকাপ এবং ক্রিকেটের বাইরে তার সময় কাটানো নিয়ে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখছেন?
শরিফুল ইসলাম: সত্যি বলতে, আমি বিশ্বকাপ খুব একটা দেখছি না। বড়জোর একটা বা দুইটা ম্যাচ দেখেছি। যেহেতু আমরা বিশ্বকাপে যাইনি, তাই ম্যাচগুলো খুব একটা দেখা হচ্ছে না। ‘অদম্য টি২০ কাপ’-এর পর অনেকদিন পর একটা লম্বা ছুটি পেয়েছি। তাই গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।
বিশ্বকাপে না খেলার অভাব পূরণ করতে অনেকটা ‘অদম্য টি২০ কাপ’ আয়োজন করা হয়েছিল। টুর্নামেন্টটি কেমন ছিল?
শরিফুল: ক্রিকেটার হিসেবে আমরা প্রতিটি ম্যাচেই সমান পরিশ্রম করি। তবে একটি বিশ্বকাপ এবং কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আমেজ সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই; প্রতিটি খেলোয়াড় সারা বছর প্রস্তুতি নেয় এই আসরে খেলার জন্য। তাই অন্য কোনো টুর্নামেন্টের সঙ্গে এর তুলনা করা ভুল হবে।
আপনি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর আপনার কেমন লেগেছিল?
শরিফুল: আমাদের ভাগ্যে যা নেই, তা নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। যা হবার হয়ে গেছে। সামনে যা আসবে, আমি সেদিকেই মনোযোগ দেব এবং ভালো কিছু অর্জনের চেষ্টা করব।
বিশ্বকাপে খেলতে না পারা সব ক্রিকেটারের জন্যই একটি বড় ধাক্কা ছিল। কিন্তু এর থেকে ইতিবাচক কিছু কি বেরিয়ে এসেছে?
শরিফুল: আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আমি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছি। বাড়িতে ফিরেছি, ছেলের সঙ্গে অনেক খেলাধুলা করছি এবং বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে আছি। টানা খেলার মধ্যে থাকায় এই বিরতিটি দারুণ লাগছে। মাঝে মাঝে সবকিছু একঘেয়ে হয়ে যায় বা শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যেহেতু এখন কোনো খেলা নেই, তাই পরিবারের জন্য অনেক সময় পাচ্ছি। আপনারা জানেন যে, আমরা খুব একটা পারিবারিক সময় পাই না, তাই সেদিক থেকে এটি বেশ সতেজ অনুভূতি দিচ্ছে।
সামনে বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আসছে। সেটি নিয়ে পরিকল্পনা কী?
শরিফুল: আমরা বেশ কিছুদিন ধরে শুধু টি২০ খেলছি। এখন ওয়ানডে খেলব, তাই অবশ্যই সেটির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমার সঙ্গে অন্য সবাইও ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি ওডিআই সিরিজও খেলব যা সম্ভবত ঈদের পর [১২-১৬ মার্চ]।