এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে অস্ট্রেলিয়ার অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর সমালোচকরা দলটির বোলিং বিভাগ ও খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন।
২০২১ সালের আসরের চ্যাম্পিয়নরা গতকাল মঙ্গলবার চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেছে। আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় অজিদের টপকে ‘বি’ গ্রুপ থেকে জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে চলে যায়। আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল। তবে পরের দুটি ম্যাচে তারা জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে পরাস্ত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার এই বিশ্বকাপ অভিযানকে ব্যাপকভাবে ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। চোটের কারণে তারা দুই মূল পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডকে একেবারেই পায়নি। আর অনুশীলনের সময় কুঁচকিতে আঘাত পাওয়ার পর রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় অধিনায়ক মিচেল মার্শ প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি।
‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ পত্রিকার মতে— হ্যাজলউড, কামিন্স বা মিচেল স্টার্ককে (যিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন) ছাড়া অজিদের পেস আক্রমণ ছিল ‘অতীত গৌরবের ছায়া মাত্র’।
সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ‘সমস্যা হলো, পূর্ববর্তী সিরিজগুলো জয়ে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, এবারের আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তে এসে সেই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে চরম ধস নেমেছে।’
ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড, জশ ইংলিশ, জেভিয়ের বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশিসদের পারফরম্যান্সের ‘বিরাট অবনতি’র দিকে আঙুল তাক করেছে। তারা স্কোয়াড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচকদের ভুলেরও সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে, কুপার কনোলিকে দলে নেওয়াকে তুলনা করা হয়েছে ‘কসাইয়ের কাছে ভেড়া উৎসর্গ করা’র সঙ্গে।
সবশেষ বিগ ব্যাশ লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এবং স্পিন বোলিং মোকাবিলায় দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও কিংবদন্তি স্টিভ স্মিথকে শুরুতে দলের বাইরে রাখা হয়েছিল। গত শুক্রবার জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর তাকে হ্যাজলউডের বদলি হিসেবে তাকে উড়িয়ে আনা হয় এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পত্রিকাটি আক্ষেপ করে লিখেছে, ‘মার্শ নেটে চোট পাওয়ার পাঁচ দিন পরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য স্মিথ কেন কলম্বোতে উপস্থিত ছিলেন না, সেটার কোনো সন্তোষজনক উত্তর আমরা এখনও পাইনি।’
এরপর গত সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচেও স্মিথকে একাদশে রাখা হয়নি। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মিডল-অর্ডারে ধস নামে এবং তারা ৮ উইকেটে পরাস্ত হয়।
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ব্র্যাড হগ ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘টকস্পোর্ট’কে বলেছেন, ‘আমাদের বোলিংয়ে সেই গভীরতা নেই এবং সেটি এখানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। আমরা এই বিশ্বকাপের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলাম না এবং এই পর্যায়ে আমাদের কপালে যা জুটেছে, তা সম্ভবত আমাদের প্রাপ্যই ছিল।’
হগ যোগ করেছেন, এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে নির্বাচক ও কোচিং স্টাফরা সম্ভবত ব্যাপক চাপের মুখে পড়বেন, ‘তাদেরকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং গভীরতার দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে, যখন কামিন্স, হ্যাজলউড ও স্টার্কের মতো বোলাররা থাকে না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কেমন হবে— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’