২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ার তিক্ত বাস্তবতাকে শান্তভাবে মেনে নিয়েছেন শুবমান গিল। নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষোভ না দেখিয়ে বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টিকে পরিণত মনে গ্রহণ করতে শিখেছেন ভারতের তারকা ব্যাটার। নিজের ক্যারিয়ারের এই মোড় নিয়ে এখন তার কণ্ঠে ঝরছে জীবনমুখী দর্শন।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় গিলের। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও একটিতেও স্কোয়াডে জায়গা পাননি তিনি। আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে শুরু হতে যাওয়া চতুর্থ বিশ্বকাপেও ব্রাত্য থাকছেন।
বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক গিল বলেছেন, ‘আমি মনে করি, একজন অ্যাথলেট বা একজন খেলোয়াড় হওয়ার মূল মন্ত্রই হলো বর্তমানে মনোযোগী থাকা। মাঠে আপনার প্রধান কাজ— ব্যাটিং বা বোলিংয়ের সময় আপনি যত বেশি বর্তমানে ডুবে থাকবেন, ভবিষ্যতে কী হতে পারে বা অতীতে কী হয়ে গেছে তা নিয়ে আপনার চিন্তা তত কম হবে। আর এটাই আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘আমার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিটা সব সময় একই থাকে। ঠিক এই মুহূর্তে আমার কী করা প্রয়োজন— এই ক্ষণে কোনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এখনই ঠিক কী করা দরকার— তাতে আমি যত বেশি মনোযোগ দিই, ততই আমি বর্তমানে ডুবে থাকতে পারি। এটি জীবনকে অনেক বেশি সহজ করে তোলে; আর জীবন যখন সহজ হয়, তখন বেঁচে থাকার জন্য এটি অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও সুখী একটি জায়গা হয়ে ওঠে।’
তবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশা স্বীকার করেছেন ২৬ বছর বয়সী টপ অর্ডার ব্যাটার, ‘মাঠে নামলেই অনেক কিছু করার ইচ্ছে থাকে। তাই (সুযোগ না পাওয়াটা) অবশ্যই খুব হতাশাজনক। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনার মনে এই বিশ্বাস থাকেই যে, যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান, তবে আপনি আপনার দল ও দেশের জন্য তা জিততে পারবেন। তা সত্ত্বেও, আমি নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি এবং আমাদের টি-টোয়েন্টি দলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আমি অন্তর থেকে আশা করি, তারা আমাদের জন্য এই বিশ্বকাপটা জিতে আনবে।’
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হারায় দলনেতা হিসেবে চাপে রয়েছেন গিল। এই ব্যর্থতার পেছনে প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি, ‘আমাদের খেলা শেষ দুটি টেস্ট সিরিজের (দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) দিকে তাকালে দেখবেন, প্রস্তুতির জন্য আমরা পর্যাপ্ত সময় পাইনি। ভারতে খেলার ঠিক চার দিনের মাথায় অন্য একটি দেশে গিয়ে আরেকটি ম্যাচ খেলা মোটেও সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে সফরগুলো যখন দীর্ঘ হয়।’
গিলের মতে, সাদা বলের ক্রিকেট থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে আরও সময়ের প্রয়োজন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রস্তুতির জন্য অন্তত কিছুটা সময় পাওয়া খুব জরুরি, বিশেষ করে যখন আপনি সাদা বলের ক্রিকেট থেকে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছেন। এই বিষয়টির ওপর আমি বরাবরই খুব জোর দিয়েছি। সামনের দিনগুলোতে আমরা এটি মাথায় রাখব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব, যাতে যে কোনো টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি।’
গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের আগে টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে গিলকে ফিরিয়েছিল ভারত। তবে রান খরায় তিনি শেষমেশ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ করে নিতে পারেননি।