আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর তুলনায় তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাঁচ গুণেরও বেশি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মোট ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তার ‘গৃহিণী’ স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, টুকুর বার্ষিক আয় ৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ৩ লাখ টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও আমানত থেকে আয় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘ওয়ান টেক্স লিমিটেডের’ পরামর্শক।
হলফনামা অনুযায়ী, টুকুর হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ টাকা। তার স্ত্রীর হাতে নগদের পরিমাণ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৫২ টাকা।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শেয়ারবাজারের ৯টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে ৩২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বিপরীতে, তার স্ত্রীর শেয়ার ও সঞ্চয়ের পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা।
হলফনামায় টুকুর কোনো স্থায়ী আমানত বা সঞ্চয় নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রীর সঞ্চয় ও আমানতের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ টাকা।
যানবাহনের ক্ষেত্রে টুকুর সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা হলেও তার স্ত্রীর রয়েছে ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের যানবাহন।
হলফনামা অনুযায়ী, টুকু তার স্ত্রীকে ২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী তার ভাইকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছেন।
প্রচুর অস্থাবর সম্পদ থাকা সত্ত্বেও হলফনামা অনুযায়ী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
টুকুর কৃষিজমির মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর কৃষিজমির মূল্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে জমির পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
হলফনামায় টুকুর বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা এবং তার স্ত্রীর বাড়ির মূল্য ২০ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট স্থাবর সম্পদের মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০৭ টাকা, যেখানে তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া হলফনামা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে মোট ১০টি মামলা রয়েছে, যার সবগুলোই বর্তমানে স্থগিত।