বাংলাদেশি বোলারদের তোপে পাকিস্তান মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৮ উইকেটে ম্যাচ হারার পর নিজের দেশের ক্রিকেট নিয়ে বড় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানের তরুণ ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা এবং দল নির্বাচন নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি সতর্ক করেছেন যে, পাকিস্তান হয়তো কোনো এক সময় ‘অ্যাসোসিয়েট’ পর্যায়ের দলে পরিণত হতে পারে।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। আগে ব্যাট করা দলটিকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দেন নাহিদ রানা।
ওই ম্যাচের পর ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় আমির তার দেশের ক্রিকেট নিয়ে প্রকাশ করেন শঙ্কা, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছে হারতে শুরু করেছি; আমি চিন্তিত যে আমরা হয়তো কোনো অ্যাসোসিয়েট পর্যায়ের দলে পরিণত হতে পারি।’
এই সিরিজ খেলতে ছয়জন অনভিষিক্ত খেলোয়াড় নিয়ে আসে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচেই অভিষেক হয় চার ব্যাটারের। বাবর আজমের মতো পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের খেলানোর সমালোচনা করে আমির বলেন, ‘আপনার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল প্রয়োজন যেখানে সিনিয়র এবং তরুণদের সংমিশ্রণ থাকবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া শুধু তরুণদের ওপর নির্ভর করে আপনি সিনিয়রদের হুট করে বাদ দিতে পারেন না। এটি দলের অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর।’
পাকিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার মায সাদাকাত ও শামিল হোসেনের ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বাঁহাতি এই সাবেক পেসার, ‘তাদের টেকনিকে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এখনকার তরুণরা কেবল মিড-উকেটের দিকে খেলতে চায়। বল যখন অফ-স্টাম্পে থাকে, তখন তারা সেটা সামলাতে জানে না।’
শামিল হোসেনের আউটের উদাহরণ টেনে তিনি যোগ করেন, ‘শামিল মিড-উকেটে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছে। তরুণদের বোঝা উচিত যে অফ-সাইড এবং মিড-অফের ওপর দিয়েও রান তোলা সম্ভব।’
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দাপট দেখে মুগ্ধ আমির। বিশেষ করে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের টপ-অর্ডার ধসিয়ে দেওয়া নাহিদ রানার স্তুতি গেয়েছেন তিনি ‘পাকিস্তান মাত্র ১১৪ রান করেছে। নাহিদ চমৎকার বোলিং করেছে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলো অসাধারণ।’
২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন নাহিদ। ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের বোলিংয়েরও সমালোচনা করেন আমির, ‘আমাদের বোলিং ছিল হতাশাজনক। যে উইকেটে আমরা ভুগেছি, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মাত্র ১৫.১ ওভারে লক্ষ্য তাড়া করে ফেলেছে।’
শুক্রবার দুই দলের দ্বিতীয় ম্যাচ। পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা করলেও বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। আমিরের মতে, বাংলাদেশ স্পিন উইকেট বানাবে না, বরং তাদের ‘তিনজন শক্তিশালী ফাস্ট বোলার’ দিয়ে সিরিজ জেতার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়বে।