রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার তাতে যোগ দিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। তিনি বেনফিকার কোচ জোসে মরিনহোর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ওই ম্যাচের পর মরিনহোর মন্তব্যগুলো ছিল ‘বিরাট ভুল’।
গত মঙ্গলবার রাতে লিসবনে প্লে-অফের প্রথম লেগে বেনফিকার মাঠে ১-০ গোলে জেতে রিয়াল। ম্যাচ চলাকালীন বেনফিকার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন ভিনিসিয়ুস। তিনি রেফারিকে জানান যে, প্রেস্তিয়ান্নি সঙ্গে তর্কের সময় তাকে ‘বানর’ বলে গালি দেওয়া হয়েছে।
ম্যাচশেষে পর্তুগিজ তারকা কোচ মরিনহো অবশ্য উল্টো ভিনিসিয়ুসেরই সমালোচনা করেন। তার দাবি, জয়সূচক গোলটি করার পর উদযাপনের মাধ্যমে ভিনিসিয়ুস বেনফিকার খেলোয়াড় ও দর্শকদের উস্কানি দিয়েছেন। তবে ইউরোপের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, তারা এই ‘বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ’ তদন্ত করে দেখবে।
খেলোয়াড়ি জীবনে নিজেও বর্ণবাদের শিকার হওয়া বেলজিয়ান কোচ কোম্পানি এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাঠের বাইরের প্রতিক্রিয়াগুলোই তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে, ‘মরিনহোর মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ভিনিসিয়ুসের গোল উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে মূলত তার চরিত্রের ওপর আক্রমণ করেছেন। ভিনিসিয়ুস বর্তমানে যা করছে (বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই), সেটাকে খাটো করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘নেতৃত্বের জায়গা থেকে আমার কাছে এটি (মরিনহোর) একটি মস্ত বড় ভুল এবং এমন কিছু, যা আমাদের মেনে নেওয়া উচিত নয়।’
কোম্পানির দৃষ্টিতে, ভিনিসিয়ুসের গোল উদযাপন নিয়ে আলোচনা করে মূল ঘটনা থেকে নজর সরানো ঠিক হবে না। কারণ, প্রেস্তিয়ান্নির মন্তব্যের পর তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছিল যে, তিনি কতটা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, ‘ভিনিসিয়ুসের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলে দেখবেন, এটি কোনোভাবেই অভিনয় হতে পারে না। এটি ছিল সম্পূর্ণরূপে একটি আবেগপ্রবণ বহিঃপ্রকাশ। রেফারির কাছে গিয়ে (অভিযোগ করে) এবং নিজের ওপর এত মানসিক চাপ টেনে নিয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো ফায়দা নেই।’
বায়ার্নের কোচ আরও বলেছেন, ‘ভিনিসিয়ুসের অহেতুক এমনটা করার কোনো কারণ দেখি না। সে তা করেছে কারণ তার মনে হয়েছে, সেই মুহূর্তে এটিই ছিল সঠিক কাজ।’
সেদিন ভিনিসিয়ুসের অভিযোগের পর খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান রেয়ালের খেলোয়াড়রা। ১১ মিনিট পর আবার মাঠে গড়ায় ম্যাচ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে অন্তত ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন প্রেস্তিয়ান্নি।