ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। এবার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিতে হলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, এমনই নতুন নিয়ম জারি করেছে বোর্ড।
বিশেষ করে ইনজুরি থেকে ফিরে আসা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘শুধুমাত্র যারা নির্ধারিত ফিটনেস মানদণ্ড পূরণ করবে, তারাই এনওসি (অনাপত্তি পত্র) পাবে।’ ফলে আইপিএলে অংশগ্রহণের আগে এখন ফিটনেসই হয়ে উঠেছে প্রধান শর্ত।
এই নিয়মের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছেন কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে আছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (লখনউ সুপার জায়ান্টস), নুয়ান থুসারা (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু), মাথিশা পাথিরানা (কলকাতা নাইট রাইডার্স) এবং ঈশান মালিঙ্গা (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ)।
বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ করে নুয়ান তুষারার আইপিএলে খেলার অনুমতি নির্ভর করবে তার ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স টেস্টের ফলাফলের ওপর। অন্যদিকে হাসারাঙ্গা, ইশান মালিঙ্গা এবং পাথিরানা, এই তিনজন এখনও ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকায় তাদের ফিটনেস পরীক্ষা এখনো বাকি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তিন ক্রিকেটারই সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বা তার আগে ইনজুরিতে পড়েছিলেন, যা তাদের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তবে ইতোমধ্যেই স্বস্তির খবর পেয়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। দুশমন্থ চামিরা, পাথুম নিসাঙ্কা এবং কামিন্দু মেন্ডিস সফলভাবে ফিটনেস মূল্যায়ন পাস করেছেন এবং তারা নিজ নিজ আইপিএল দলে যোগ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে খেলোয়াড়রা যেন সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারে। দীর্ঘদিন ইনজুরি ও সীমিত ম্যাচ খেলার কারণে অনেক ক্রিকেটারের ফিটনেসে ঘাটতি দেখা যাওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইপিএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। কারণ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে এই ফিটনেস পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
নতুন এই কড়াকড়ি মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যেখানে জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান প্রমদ্য বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কর্মক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।