ফাইনাল হারের সেই স্মৃতি ‘স্রেফ ভুলে গেছে’ দক্ষিণ আফ্রিকা

Date:

২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সেই আক্ষেপের ফাইনাল। শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। ওই ক্ষত কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না, কিন্তু প্রোটিয়া শিবিরে এখন বইছে ভিন্ন হাওয়া। ভারতের বিপক্ষে এবার সুপার এইটের বড় লড়াইয়ের আগে দলটির অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক জানালেন, গত আসরের দুঃস্বপ্ন তারা স্রেফ পেছনে ফেলে এসেছেন।

ডি কক স্পষ্ট করে বলেন, ‘সত্যি বলতে, সেই দিনের পর আমরা স্রেফ সেটা ভুলে গিয়েছি। আমার মনে হয় না আমাদের মধ্যে কেউ সত্যিই এটা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিল।’

বিগত ফাইনালের সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে দলের ভেতরে কোনো কাটাছেঁড়া হয়নি জানিয়ে এই অভিজ্ঞ ওপেনার বলেন, ‘সবাই বাড়ি চলে গিয়েছিল এবং কীভাবে এটি কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে প্রত্যেকে নিজস্ব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। দল হিসেবে আমাদের এটি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়নি। ব্যস এটুকুই। আমরা কখনোই এটা নিয়ে সেভাবে আলাপ করিনি।’

৩৩ বছর বয়সী ডি কক মাঝে একবার অবসরে চলে গিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বেশ কিছুদিন ছিলেন দূরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা থেকে এই বিরতি তাকে মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা করেছে বলে মনে করেন তিনি। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ডি কক বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে ফিরতে পেরে এবং প্রোটিয়াদের হয়ে খেলতে পেরে নিশ্চিতভাবেই খুশি। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিরতিটা ভালো ছিল; সতেজ হয়ে ফিরে আসা এবং যাদের সঙ্গে খেলা আমি সবসময় স্বপ্ন দেখতাম সেই প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে আবার যোগ দিতে পারা আমার জন্য দারুণ ব্যাপার।’

ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের ভেন্যু আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। চলতি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে এখানে তিনটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। কন্ডিশন সম্পর্কে ডি কক জানান তারা আছেন স্বস্তির জায়গায়, ‘আমরা এখানে দিনে এবং রাতে ম্যাচ খেলেছি, তাই কন্ডিশন সম্পর্কে আমাদের একটা ধারণা আছে। তবে আমি বলছি না যে এর গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ ভারতীয় দল এখানে আইপিএল খেলেছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের পুরো ক্যারিয়ার এখানে কাটিয়েছে। তাই দিনের শেষে আমি মনে করি না এটি খুব বড় কোনো পার্থক্য গড়ে দেবে।’

এখানকার উইকেট নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ, ‘এই উইকেটগুলো পেসারদের জন্য কিছুটা বেশি সহায়ক। স্পিনের ক্ষেত্রে বল কিছুটা বেশি ট্রাভেল করেছে।’

আহমেদাবাদের এই মাঠেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন ডি কক। তার ওপেনিং সঙ্গী এইডেন মার্করামও আছেন দারুণ ফর্মে। মার্করামের সাফল্যের রহস্য জানিয়ে ডি কক বলেন, ‘আমি মনে করি এটিই মূল বিষয়, নিজের ভূমিকা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা। আমার মনে হয় আগে সে হয়তো নিয়মিত ওপেন করত না—কখনও তিন, চার বা পাঁচ নম্বরে খেলত এবং সবসময় ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতো। তাই তাকে সবসময় পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হতো। এখন ওপেনিং করার ক্ষেত্রে সে যে স্বচ্ছতা পেয়েছেন, সেটিই তাকে সাহায্য করেছে।’

ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘স্থিতিশীল’ বলে দাবি করেন ডি কক। বড় এই ম্যাচের আগে দলে কোনো ‘মাথাব্যথা’ বা অস্থিরতা নেই বলেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।

 

Popular

More like this
Related

কিংবদন্তি সালসা শিল্পী উইলি কোলন মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ট্রম্বোনবাদক, গায়ক ও সুরকার উইলি কোলন মারা...

হাসপাতালে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা...

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নিয়ে অস্থিরতা, বাংলাদেশের জন্য বিপদ নাকি সুযোগ

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘রেসিপ্রোকাল’ বা...

জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গড়ার দিকে যাচ্ছে এনসিপি

তরুণ-নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হওয়া...