ফাঁকা বাস কাউন্টার, ফাঁকা ঢাকার সড়ক

Date:

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। রমজান মাস ২৯ দিনে শেষ হতে পারে—এমন ভাবনায় গতকাল বৃহস্পতিবারই রাজধানী ছেড়েছেন ঘরমুখো অধিকাংশ মানুষ। টানা ছুটিতে অনেকেই আবার পরিবার নিয়ে পর্যটন এলাকায় গেছেন।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার চিত্র অনেকটাই ভিন্ন; সড়কগুলো একেবারেই ফাঁকা। চিরচেনা যানজট, মানুষের ভিড় বা যানবাহনের শব্দ নেই। রিকশা, মোটরসাইকেল আর ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া সড়কে তেমন কোনো যানবাহনের চাপ নেই।

সাধারণত ঈদের আগে বহু মানুষ ঢাকা ছাড়েন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ধারণা দিয়েছিলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এক থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারেন।

গতকালও বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। কিন্তু আজ সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। যাত্রী না থাকায় বাস কাউন্টারগুলো খাঁ খাঁ করছে। অলস সময় পার করছেন পরিবহনকর্মীরা।

সকালে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, এনা পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক বাবলু বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে যাত্রী নেই। কয়েকটি গাড়ি প্রায় ফাঁকা গেছে। গতকাল আমাদের শ্বাস ফেলার সময় ছিল না, আর আজ আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছি। পরিবার, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছি।’

রাজশাহী যাওয়ার জন্য কল্যাণপুরে গ্রামীণ ট্রাভেলসের কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী শাওন। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট কেটেছিলাম। ভেবেছিলাম অনেক ভিড় হবে। কিন্তু এসে দেখি কাউন্টার একদম ফাঁকা। আমরা মাত্র কয়েকজন যাত্রী।’

গতকাল পর্যন্ত অফিস থাকায় আজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাহিদ ইসলাম নামের আরেক যাত্রী। কাউন্টার ফাঁকা থাকায় কেটিসি হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি কাউন্টারে কর্মীদের লুডো খেলে সময় কাটাতে দেখা যায়।

গ্রামীণ ট্রাভেলসের কর্মী মো. মিন্টু মিয়া সকাল থেকে যাত্রীর আশায় গন্তব্যের নাম ধরে হাঁকডাক করছিলেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল যাত্রীর অভাব ছিল না। সেই তুলনায় আজকে যাত্রী নেই বললেই চলে।’

একই চিত্র দেখা গেছে গাবতলী বাস টার্মিনালেও। ঈগল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাগুরা-যশোর-খুলনা রুটে যাত্রী পাচ্ছি না। আমাদের গাড়ি বসে আছে।’

এদিকে যাত্রী কম থাকায় পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত অনেক বাস ছাড়ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন টিকিট কাটা যাত্রীরা। কুষ্টিয়াগামী যাত্রী ফজলে রাব্বী বলেন, ‘সকাল ১১টার বাসের টিকিট কেটেছিলাম। আমরা মাত্র দুজন যাত্রী বসে আছি। কয়েকটি বাসের যাত্রী মিলিয়ে আসন পূর্ণ হলে তবেই বাস ছাড়বে। কে জানে কখন যেতে পারব!’

ঢাকা থেকে রাজবাড়ী-পাংশা রুটে চলে দিগন্ত পরিবহন। এই পরিবহনের কর্মী মনির বলেন, ‘কাকে নিয়ে গাড়ি ছাড়ব! সকাল থেকে যাত্রী নেই, সব গাড়ি বন্ধ।’

রাবেয়া পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কম্পিউটার চালু আছে, কিন্তু যাত্রী এমনকি পরিবহনকর্মীও নেই।

গ্রামীণ ট্রাভেলসের গাবতলী কাউন্টারে দুই সন্তান মেহেরীন ও নেহাকে নিয়ে বসে ছিলেন নাটোরগামী যাত্রী লাকি। তিনি জানান, স্টাফরা নাটোর-রাজশাহী-চাঁপাই হেঁকে চলেছেন—যদি বাস ছাড়ার আগে আর দুএকজন যাত্রী পাওয়া যায়।

যাত্রী সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়ায় যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন আমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী কম থাকায় বাস চলছে না। ঢাকা-নাগরপুর পরিবহনে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া থাকে ৭০ টাকা। আজ বলছে, যেখানেই যাই ২০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ঈদে বাড়িতে তো যেতেই হবে, তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে টিকিট কিনলাম।’

করোনা মহামারিতে দেশে চাকরি হারিয়েছিলেন হাজারো মানুষ। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাতে মূল্যস্ফীতি ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে দেশে। জীবিকার তাগিদে পেশা বদলে অনেকেই বেছে নেন পরিবহন খাত। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং পেশা। ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা পড়েন লাখো মানুষ।

পাম্পগুলোতে দেখা যায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহনের সারি। প্যানিক বায়িংয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। ঈদকে কেন্দ্র করে গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে সীমা তুলে নিলে ভোগান্তি কমতে শুরু করে। তবে এখনো অনেক পাম্পে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে।

Popular

More like this
Related

দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে ঈদুল ফিতরের...

শেষ বক্তব্যে যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আইআরজিসি মুখপাত্র নায়িনি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলি...

ইরান থেকে আজ রাতে দেশে ফিরছেন ২৮০ জন

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানে আটকা পরা প্রায় ২৮০...

কলকাতার ‘আজাদি’ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী

দুই বাংলার সাড়া জাগানো অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী কলকাতার একটি...