সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকার প্রধান। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদের নেতার দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন হয় এবং তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে তাদের মাঝে দপ্তর বণ্টন করেন।
আজ মঙ্গলবার দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করতে তার জন্য সর্বোচ্চ স্তরের আর্থিক ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।
দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশেন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের সংশোধিত এই আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর মাসিক ব্যয়ভাতা ১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
এছাড়া, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রী দৈনিক ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পান। অন্যদিকে, আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী বীমা সুবিধা পান ২৫ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক স্বেচ্ছাধীন তহবিলের পরিমাণ বার্ষিক দেড় কোটি টাকা নির্ধারিত আছে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয়ভাবে সুসজ্জিত ও সুরক্ষিত বাসভবন এবং প্রয়োজনীয় জনবলসহ দাপ্তরিক কার্যালয় পান। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি খরচে দেশে এবং প্রয়োজনে বিদেশে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়।
এদিকে, একজন মন্ত্রী বেতন পান মাসিক এক লাখ ৫ হাজার টাকা। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা এবং চিফ হুইপরাও সমান বেতন পান।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী কাউকেই তাদের বেতনের জন্য কোন কর দিতে হয় না।
এছাড়া একজন মন্ত্রী দৈনিক ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা, নিয়ামক ভাতা হিসেবে মাসিক ১০ হাজার টাকা ও স্বেচ্ছাধীন তহবিল বাবদ পান ১০ লাখ টাকা।
এছাড়া, মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা, সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি এবং ঢাকার বাইরে অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি পান, যার যাবতীয় খরচ বহন করে সরকার।
এছাড়া, তারা সরকারি খরচে রেল ভ্রমণ ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পান। বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন ব্যবহার করতে পারেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ ভবনটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করে।
সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র এবং সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরনের বিল পান মন্ত্রীরা।
আবার একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকার ভাতা হিসেবে প্রতিমাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা, নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা পান।
তবে, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ডিউটি ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।