স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নিজেদের এলাকার সদস্য পেয়েছেন পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জনগণ।
আসনটির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
এতে দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।
এই জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। তাদের বিকল্প আয়ের উৎসও সীমিত। তাই প্রতিশ্রুতিশীল সমতলের চা শিল্প রক্ষা, দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় সংযোগ সম্পন্ন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর গতিশীল, শিল্পায়ন, অবহেলিত স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং নদীসমূহ রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন এ নেতৃত্বের কাছে উদ্যোগী ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শরীফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর কাছে শিল্প, বিশেষ করে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’
পাশাপাশি সমতলের সম্ভাবনাময়ী চা শিল্প রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপরও জোর দেন তিনি।
দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় তথা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী বাংলাবান্ধা ভূমি বন্দরের মাধ্যমে চার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
পঞ্চগড় সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবক ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। কেননা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার কারণে সামান্য অসুখেও এখানকার মানুষদের ঠাকুরগাঁওসহ অন্যান্য জেলার হাসপাতালে যেতে হয়।’
তিনি আরও জানান, একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, জেলার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সংকট সমাধানে সহায়ক হতে পারে।
পঞ্চগড়ের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীসহ সকল নদ-নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ করে জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করে পদক্ষেপ নিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান আহসান হাবীব।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের মেনাগ্রাম গ্রামে ১৯৬৬ সালে জন্ম নেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। রাজশাহী নিউ ডিগ্রি সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হল ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব।