ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার শুরুর দিকে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় নিহত হন খামেনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।
জানা যায়, এই হামলায় আহত হয়েছেন তার ছেলে ও দেশের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি।
ওই ঘটনার কয়েকদিন পর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনো নতুন নেতার পক্ষ থেকে আসেনি কোনো বার্তা।
গত মাসের ওই ঘটনাবহুল দিনের পর জনসম্মুখেও আসেননি মোজতবা খামেনি।
সব মিলিয়ে, তার সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে আজ বুধবার সেসব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, সুস্থ ও নিরাপদ আছেন মুজতবা খামেনি।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইয়োসেফ পেজেশকিয়ান একজন সরকারি উপদেষ্টা। তিনি সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে নিজের চ্যানেলে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আমি এমন খবর শুনেছি, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে জনাব মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। খামেনি পরিবারের সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন কয়েকজন বন্ধুর কাছে আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। তারা আমাকে বলেছেন, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান মাসের যুদ্ধে আহত অভিজ্ঞ যোদ্ধা’ আখ্যা দেয়। কিন্তু তার সুস্থতা বা আঘাতের ধরন নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি চ্যানেলটি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দীর্ঘদিনের শাসক আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় তার দ্বিতীয় সন্তান মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পান।
দুই শক্তিশালী দেশের যুগপৎ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ অংশজুড়ে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। বাবার শাসনামলে সরকারি পদে থাকলেও জনসম্মুখে আসেননি বললেই চলে। তার দেওয়া বক্তব্য ও ভাষণের সংখ্যাও হাতেগোনা।
আজ বুধবার ইরানের তিন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনি ‘পা সহ শরীরের বিভিন্ন আঘাত পেয়েছেন। কিন্তু তিনি এখন সতর্ক অবস্থায় আছেন।’
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, নিরাপদ অবস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন মোজতবা খামেনি। বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখছেন তিনি।