পাবনায় ইফতারের থালায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন

Date:

বিশাল এলাকা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো বড় বড় থালা (খাঞ্চা) আর সেগুলোতে সাজানো রয়েছে হরেক রকম ইফতারের খাবার। মাগরিবের আজান শুরু হওয়ার আগেই জড়ো হন সহস্রাধিক মানুষ, প্রতিটি থালা ঘিরে বসা পাঁচ-ছয়জন রোজাদার। মাগরিবের আজান হলেই সবাই মিলে শুরু করেন ইফতারি।

এটি রমজান মাসে পাবনার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চাঁপা বিবি ওয়াকফ স্টেট জামে মসজিদের প্রতিদিনের চিত্র। পবিত্র রমজান মাসে প্রতিদিন মসজিদের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আয়োজন করা হয় এমন গণ ইফতারের।

রাস্তার পথচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ফুটপাতের হকার, ছিন্নমূল মানুষ—সবাই একসাথে এক থালায় ইফতারি করেন। এ এক অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত। 

রোজা শেষে ইফতারের মুহূর্তটি প্রতিটি রোজাদারের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দের। অধিকাংশ মানুষ পরিবারের সাথে ঘরে ইফতার করতে পছন্দ করলেও অনেক যাত্রী, দিনমজুর এবং নিম্নআয়ের মানুষ সূর্যাস্তের সময় শহরেই আটকা পড়েন।

এসব মানুষের কথা চিন্তা করেই চাঁপা বিবি ওয়াকফ মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিশাল এই গণ-ইফতারের আয়োজন করে। বিশাল এ আয়োজন সফল করতে প্রতিদিন জোহরের পর থেকেই কাজ শুরু করেন কিছু তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানের প্রথম দিন থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত এই আয়োজন চলে। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মানুষ এতে অংশ নেন। এখানকার পরিবেশন পদ্ধতিটিও বেশ ব্যতিক্রমী। আলাদা প্লেটের পরিবর্তে বড় বড় ‘খাঁচা’ বা থালায় খাবার দেওয়া হয়, যেখানে প্রতি খাঁচায় ৫ থেকে ৬ জন মানুষ একসাথে বসে ইফতার করেন।

চাঁপা বিবি মসজিদের ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতিদিন দেড় হাজার মানুষের সেবা করা একটি বিশাল কাজ। প্রথাগত প্লেটের বদলে খাঁচা ব্যবহার করায় আমরা দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে এই বিশাল ভিড় সামলাতে পারি। প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন।’

চাঁপা বিবি ওয়াকফ এস্টেটের পরিচালনা কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান আখতার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘২০১১ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মসজিদের মোতোয়াল্লি (সম্পাদক) আলহাজ্ব হারুনুর রশিদের উদ্যোগে এ আয়োজন শুরু হয়। তিনি সৌদি আরব সফরের সময় সেখানকার মসজিদের গণ-ইফতার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পাবনায় এই মডেল চালু করেন।’

চাটমোহর উপজেলা থেকে কেনাকাটা করতে আসা আবুল হোসেন বলেন, ‘কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারিনি। এখানে এসে পাঁচজন অপরিচিত মানুষের সাথে একই থালায় ইফতার করা আমার জন্য এক নতুন ও শান্তিপূর্ণ অভিজ্ঞতা।’

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন জানান, ‘মেসে থেকে ইফতারের আয়োজন করা বেশ কষ্টকর। তাই আমি ও আমার বন্ধুরা প্রতিদিন এই মসজিদের আয়োজনের ওপর নির্ভর করি।’

Popular

More like this
Related

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের যত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহ হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট...

পিংক ফ্লয়েডের ‘ব্ল্যাক স্ট্র্যাট’ গিটার রেকর্ড ১৪.৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি

ব্রিটিশ প্রগ্রেসিভ রক ব্যান্ড ‘পিংক ফ্লয়েড’ এর জনপ্রিয় সব...

বৃষ্টির পর নতুন টার্গেট পেল বাংলাদেশ

বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর...

ইরাকে মার্কিন উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে ৬ ক্রুর সবাই নিহত

ইরাকের আকাশসীমায় মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ছয়...