নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে নিহত ১, নাটোরে আহত ১৫

Date:

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে একজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নাটোরে বিএনপি-জামায়াত সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ‘ধানের শীষ’ সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। 

নিহত ওসমান সরদার (২৯) সদর উপজেলার পরনওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ওসমান সরদারের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সংঘর্ষের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের চিতাবাড়ি গ্রামে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ওসমান সরদারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

নিহতের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ধানের শীষের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের খুঁজছিল এবং তারা কোথায় আছে জানতে চাইছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ‘ধানের শীষ’ সমর্থকরা তার ভাই ওসমানের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুজনকে হারিয়ে এ আসনে সংসদ সদস্য হন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত এবং বেশকিছু বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আজ শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি মো. আবদুস সালাম জানান, শনিবার সকালে বিদ্যমান বিরোধ মীমাংসার জন্য উভয় দলের সমর্থকরা ধানাইদহ বাজারে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে দুইপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। 

আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতা আশরাফ সরকারও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় গ্রামে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয় বলে জানান ওসি।

খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জামায়াতে ইসলামীর বড়াইগ্রাম উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. আবু বকর সিদ্দিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে জামায়াতের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।’

এ বিষয়ে জানতে নাটোর-৪ আসনের নির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাজু জানান, ঘটনাটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘটলেও এটি মূলত স্থানীয় পর্যায়ের দীর্ঘদিনের বিরোধের ফল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

Popular

More like this
Related

শপথ নিলেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক...

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি: শর্তের বেড়াজালে পড়বে বাংলাদেশ?

অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর...

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান শুরু

সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।আজ...

মুম্বাইয়ে মাখোঁ-মোদি বৈঠক, হতে পারে শতাধিক রাফাল জেট বিক্রির চুক্তি

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে টেকসই ও কার্যকর যুদ্ধাস্ত্রের অন্যতম হলো...