আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে বুধবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। তবে পাঁচ ম্যাচের এই প্রস্তুতি সিরিজ শুরুর আগে স্বাগতিক শিবিরের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটিং ফর্ম।
আইসিসির সাবেক এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান সূর্যকুমার বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের কঠিনতম সময় পার করছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই ফরম্যাটে খেলা শেষ ২২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২৪৪ রান, যেখানে একটিও ফিফটি নেই। তবে অফ-ফর্ম নিয়ে সমালোচনা চললেও নিজের সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলী পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই এই ৩৫ বছর বয়সী ক্রিকেটারের।
মঙ্গলবার নাগপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সূর্যকুমার বলেন, ‘আমি নেটে সত্যিই খুব ভালো ব্যাটিং করছি। রান অবশ্যই আসবে, তবে তার জন্য আমি নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলতে পারি না। আমি আমার ক্রিকেটীয় পরিচয় পরিবর্তন করতে চাই না।’
বিগত কয়েক বছরের সাফল্যের সূত্র ধরেই এগোতে চান ভারত অধিনায়ক। তাঁর ভাষ্য, ‘গত তিন-চার বছরে যা আমাকে সাফল্য এনে দিয়েছে, আমি সেভাবেই ব্যাটিং করতে চাই। পারফরম্যান্স এলে ভালো, আর না এলে আমি আবার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করব এবং শক্তিশালীভাবে ফিরে আসব।’
২০২৪ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত শর্মা অবসর নিলে টি-টোয়েন্টি দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পান সূর্যকুমার। নেতা হিসেবে তিনি সফল; তাঁর অধীনে ভারত টানা ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও গত বছরের এশিয়া কাপ জিতেছে। তবে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত স্ট্রাইক রেট (১৬৩.২৩) সামান্য হ্রাস পেয়েছে।
ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের সাফল্যকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। সূর্যকুমারের মতে, ‘দলের দায়িত্ব যখন আমার কাঁধে, তখন ব্যক্তিগত অর্জনের কোনো জায়গা নেই। এটি একটি দলীয় খেলা এবং এখানে সবাইকে পারফর্ম করতে হবে।’
এদিকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হতে সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন তিলক বর্মা ও ওয়াশিংটন সুন্দর। নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে দলে ফিরছেন ঈশান কিষান, তবে টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলের বাদ পড়াটা বড় চমক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঘরের মাঠে কিউইদের কাছে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ভারত। তার আগে ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল স্বাগতিকরা। সেই হারের ক্ষত কাটিয়ে বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই এখন টিম ইন্ডিয়ার মূল লক্ষ্য।