নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরির অভিযোগে তিন নারীর চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনই মধ্য বয়সী। তাদের দু’জনের বাড়ি খুলনায় ও একজন কুমিল্লার বাসিন্দা।
নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
‘উপজেলার ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগে বেঁধে রাখা হয় ওই তিন নারীকে। তাদের চুল কেটে দিয়ে মারধরও করেন সেলিম মিয়া, তার পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি,’ বলেন মেহেদী।
তিনি জানান, তিনজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে তিন নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। তখন এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা চুলডি কাইট্টো না, বাবা’।
তখন সাদা পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি বলেন, ‘তরে পুশকুনিতে (পুকুরে) ফালাইয়া দিমু। চুল থাকলে তোর ঠান্ডা লাইগা যাইবো। তোরে পুশকুনিত ফালাইয়া মারমু।’
চুল কাটার পর কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবক ও এক নারীকে দেখা যায় তিনজনকে মারধর করছেন।
সেলিম মিয়ার দাবি, তার স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দৌঁড়ে পালানোর সময় তিন নারী ধরা পড়েন।
‘পুলিশের কাছে ওই তিন নারী চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন, কাজের খোঁজে তারা ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন,’ বলেন মেহেদী।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘চুরি অপরাধ, কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। বেঁধে মারধর ও চুল কেটে ফেলাও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ক্ষেত্রে চাইলে উভয়পক্ষ অভিযোগ করতে পারে, পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে।’