দুবাই বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ইরানের হামলার শিকার কুয়েতের তেলবাহী ট্যাংকারের আগুন নেভানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই হামলায় ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ধারাবাহিকতা চলছে। সবশেষ ‘আল সালমি’ নামে ওই ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটল।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) আজ মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙ্গর করা অবস্থায় আল সালমি ট্যাংকারটি ইরানের হামলার শিকার হয়।
এতে জাহাজের ক্ষতি ও আগুন লাগার পাশাপাশি চারপাশের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে কুয়েতি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল সফলভাবে নিভিয়ে ফেলেছে এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং জাহাজের ২৪ ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদ আছেন।
দুবাইয়ে ট্যাংকারে হামলার খবরের পর এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ দশমিক ১৭ ডলারে পৌঁছায়। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যখন খবর প্রকাশ করে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী, তখন তেলের দাম কিছুটা কমে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ মাসে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৫৯ শতাংশ বাড়তে চলেছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধির রেকর্ড।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, আল সালমি ট্যাংকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেপিসি জানিয়েছে, জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
লয়েডস ও ট্যাংকারট্র্যাকারসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে কুয়েত ও সৌদি আরবের ২০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই ছিল এবং এর গন্তব্য ছিল চীনের কিংদাও।
এর আগে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, সোমবার রাতে সৌদি আরবের রাস তানুড়া উপকূলের কাছে একটি গ্রিক মালিকানাধীন কন্টেইনার জাহাজের আশেপাশে দুটি পৃথক গোলা বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিটিশ মেরিটাইম রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ ‘ভ্যানগার্ড’ জানায়, এক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুটি ঘটনা ঘটে এবং জাহাজের ক্রুরা নিরাপদ আছেন।
ভ্যানগার্ড আরও জানায়, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এর আগে ১১ মার্চ এক্সপ্রেস রোম জাহাজে হামলার দাবি করেছিল। তবে জাহাজটির পরিচালনাকারী পক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।