মাত্র চার-পাঁচ বছর আগেও দয়াগঞ্জ মোড় থেকে জুরাইন রেলগেট পর্যন্ত সড়কটি ছিল কর্মচঞ্চল। দুই লেনের সড়কে মাঝখানে ছিল বিভাজক (ডিভাইডার), গাড়ি চলত দুই দিক থেকেই। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেললাইনের পাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার পর থেকে সড়কটি সংকুচিত হয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে।
পোস্তগোলা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখন বিশৃঙ্খলভাবে চলছে যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিশাল অংশজুড়ে বড় বড় গর্ত। রেললাইনের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পর সড়কের পশ্চিম পাশের অংশটি গত পাঁচ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে অবাধে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। এই অংশে ময়লার ভাগাড়ের পাশাপাশি ট্রাক, হিউম্যান হলার ও রিকশার অবৈধ পার্কিং গড়ে উঠেছে। সড়কের পাশে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর।
মীরহাজিরবাগের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘রেললাইনের পাশে দেয়াল তোলার পর থেকেই এই রাস্তার অর্ধেক ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এরপর আর কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। এখন রাস্তার অল্প একটু অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেটুকুও মেরামতের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী।’
আবদুল আল আমিন নামের আরেক বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি হলেই ভাঙাচোরা সড়কে পানি জমে যায়। তিনি বলেন, জুরাইন থেকে দয়াগঞ্জ পর্যন্ত এই রাস্তাটি হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। রাস্তার এই দশার কারণে প্রায়ই রিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হওয়ার আগে দক্ষিণাঞ্চলের সব বাস এই পথ দিয়েই চলত। রাস্তাটি মেরামত করলে অন্য সড়কের ওপর চাপ কমবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ওই জমি রেলওয়ের এখতিয়ারভুক্ত। বর্তমানে শুধু সড়কের এক পাশ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি আর দুই লেনের করা সম্ভব নয়। পরিত্যক্ত অংশের কোনো কোনো জায়গা প্রস্থে মাত্র পাঁচ-ছয় ফুট। তাই ওই পাশটি উন্নয়ন করলেও তাতে সুফল মিলবে না।’
তিনি আরও জানান, পুরো জায়গাটি রেলওয়ের মালিকানাধীন। রেলওয়ের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়েই সিটি করপোরেশন দেয়ালের বাইরে কিছু কাজ করেছে। রেলওয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় পুরো সড়কটি সংস্কার করার কথা থাকলেও কিছু অংশ করেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।