দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের সম্ভাব্য শেষ সিনেমার মুক্তি নিয়ে মাসখানেক ধরে আইনি জটিলতা চলছে। শেষ পর্যন্ত নির্মাতারা আইনি লড়াই থেকে সরে রিভাইজিং কমিটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) বিরুদ্ধে সিনেমার নির্মাতাদের করা মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিচারপতি পি টি আশার একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে এই রায় দেওয়া হয় বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এর মাধ্যমে আপাতত সিনেমাটির আইনি জটিলতা কাটল। এখন নির্মাতারা রিভাইজিং কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। সেখানে সিনেমাটি ইউ, ইউ/এ, অথবা এ ক্যাটাগরির সার্টিফিকেট পেতে পারে।
আদালতের শুনানিতে সিবিএফসির আইনজীবী জানিয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনেমাটির সার্টিফিকেট আটকে দেন। কারণ বোর্ডের একজন সদস্য সিনেমাটি দেখার পর অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ ছিল, সিনেমার কিছু সংলাপ ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, বাছাই কমিটিতে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি ছাড়া সিনেমাতে ব্যবহৃত সশস্ত্র বাহিনীর প্রতীকগুলোর মূল্যায়ন হয়েছে, যা নিয়মের পরিপন্থী। এই অভ্যন্তরীণ অভিযোগের পর সিনেমাটি রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রধান বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে সিবিএফসির রিভাইজিং কমিটি কাজ করে। সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রিভাইজিং কমিটিতে চেয়ারম্যান (অথবা তার অনুপস্থিতিতে একজন বোর্ড সদস্য) এবং পরামর্শক প্যানেলের নয়জন সদস্য থাকেন, যারা প্রধান কমিটিতে ছিলেন না।
প্রতিটি সদস্য পুরো সিনেমাটি কোনো কাট ছাড়াই দেখেন এবং স্বাধীনভাবে মতামত দেন। সিদ্ধান্তটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নেওয়া হয়, সম সংখ্যার ক্ষেত্রে সভাপতি কাস্টিং ভোট দেন। যদি সভাপতির ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে না মিলে, তাহলে সিনেমাটি আরেকটি রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানো হয়।
সবাই একবার সম্মতি হলে নির্মাতাদের কাটছাঁট মেনে আঞ্চলিক অফিসারের কাছে জমা দিতে হয়। জনা নায়গানের ক্ষেত্রে, অভ্যন্তরীণ অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রধান বাছাই কমিটিতে একজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তাই রিভাইজিং কমিটিতে একজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, কমিটি গঠন করতে প্রায় দুই সপ্তাহ লাগতে পারে, তারপরে স্ক্রিনিং এবং আলোচনার জন্য আরও সময় লাগবে। জনা নায়গান নির্মাতারা কখন রিভাইজিং কমিটির পথে গেছেন, তা জানা যায়নি।
সিবিএফসির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ডি বালামুরালী ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে জানিয়েছিলেন, সার্টিফিকেট জারি না হওয়া পর্যন্ত জনা নায়গানের সার্টিফিকেশন স্ট্যাটাস প্রকাশ করা যাবে না। গোপনীয়তা নীতিমালা অনুসারে, কমিটি গঠন, আলোচনা এবং সুপারিশ সবই গোপন।
তিনি বলেছেন, আমাদের সমস্ত পরীক্ষা প্রক্রিয়া গোপন। সার্টিফিকেট জারি না হওয়া পর্যন্ত কিছু প্রকাশ করা যাবে না। আইন অনুযায়ী, কোনো তথ্য শেয়ার করা যায় না।
সার্টিফিকেট জারি হলে তা সিবিএফসির অফিসিয়াল পোর্টালে আপলোড করা হবে।
কেভিএন প্রোডাকশনসের এই সিদ্ধান্ত থেকে দেখা যায়, তারা প্রশাসনিক পথের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন, যা আইনগত লড়াইয়ের তুলনায় দ্রুত হতে পারে। তবে সিনেমাটি কখন সার্টিফিকেট পাবে তা স্পষ্ট নয়। তবে, নির্মাতারা আশা করছেন এই মাসের শেষের দিকে মুক্তি দিতে চান। অন্যথায়, সিনেমাটির মুক্তি আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
এদিকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা ফেব্রুয়ারি শেষ বা মার্চ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচন কমিশন ভোট প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করতে পারে। বিজয় তার রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে জনা নায়গানে প্রচারমুখী বক্তৃতা থাকায় এটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবে দেখানো হতে পারে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রযোজকরা সিবিএফসির বিরুদ্ধে করা রিট পিটিশন প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তারা মাদ্রাজ হাইকোর্ট রেজিস্ট্রিতে একটি চিঠি জমা দিয়ে জানান, আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বদলে তারা সিনেমাটি রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
থালাপতি বিজয়ের সম্ভব্য শেষে সিনেমা ৯ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর সার্টিফিকেট না পাওয়ায় নির্মাতারা মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়। শুরুতে বিচারপতি পিটি আশা সিবিএফসিকে সিনেমাটির জন্য ইউ/এ ১৬+ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শুনানির সময় সেন্সর বোর্ডের আইনজীবী জানান, বোর্ডের এক সদস্য অভিযোগ করেন, সিনেমার কিছু সংলাপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। অভিযোগকারী আরও বলেন, সিনেমাতে ব্যবহৃত সেনাসংক্রান্ত প্রতীক পর্যবেক্ষণের জন্য যাচাই কমিটিতে কোনো ডিফেন্স এক্সপার্ট ছিলেন না, যা আইনবিরুদ্ধ।
এই অভিযোগের পর সিবিএফসির চেয়ারম্যান সিনেমাটির সার্টিফিকেট স্থগিত রাখেন এবং রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
এরপর সিবিএফসি একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চায়। তখন জনা নায়গানের টিম সুপ্রিম কোর্টে যায়, কিন্তু শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে এবং মামলাটি আবার মাদ্রাজ হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়।
২৭ জানুয়ারি ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে, একক বেঞ্চের আদেশ বাতিল করে এবং নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রযোজকদের আবেদন সংশোধনের অনুমতিও দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত জনা নায়গান টিম আইনি লড়াই বন্ধ করে রিভাইজিং কমিটির পথেই এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ ভিনোথ। এতে আরও অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মমিতা বাইজু, গৌতম মেনন, প্রকাশ রাজ ও প্রিয়ামণি।