জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানকে অবিলম্বে ‘নির্বিচার হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি পূর্বাভাষ দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় নেতাদের শাসনের অবসান ঘটেছে।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলছিল পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা। গত বুধবার তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে সব কিছু ‘ইতিবাচক’ বলেই ধরে নিয়েছিল উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকা বিশ্ববাসী।
তবে দুই দিনের মাথায় শান্তি উদ্যোগকে ছুঁড়ে ফেলে ইরানে যুগপৎ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ মোট ৪৮ জন নেতা এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন।
খামেনি হত্যা ও দেশের ওপর হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেগুলোর ওপর হামলা শুরু করে ইরান।
একে একে আক্রান্ত হয় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল।
এসব হামলাকেই ‘নির্বিচার হামলা’ আখ্যা দেন জার্মান চ্যান্সেলর।
বার্লিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মের্ৎস বলেন, ‘ইরানের জনগণের পাশাপাশি জার্মানরাও দেশটিতে ধর্মীয় শাসনের অবসান ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করছে।’
তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ায় ইরান এখন ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যতের’ দিকে আগাচ্ছে।
মের্ৎস নিশ্চিত করেন, তিনি বুধবার ওয়াশিংটন সফর করবেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
‘আমরা এখনো জানি না, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) পরিকল্পনা সফল হবে কী না’, যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি অংশ নেয়নি।
তিনি জানান, জার্মানির মাটিতে কোনো ধরনের ‘ইহুদিবিদ্বেষী বা মার্কিনবিদ্বেষী’ হামলা সহ্য করা হবে না।