টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচনার মুখে থাকা তিলক বর্মার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি জানিয়েছেন, তিলক মূলত টিম ম্যানেজমেন্টের দেওয়া নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ীই খেলছেন।
চলতি বিশ্বকাপে তিলকের স্ট্রাইক রেট তার ক্যারিয়ারের গড় ১৪১ থেকে কমে ১২০-এর ঘরে নেমে এসেছে। বিশেষ করে মন্থর উইকেটে স্পিনারদের বিপক্ষে তাকে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা গেছে। চার ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা। ইনিংসের শুরুতে থিতু হওয়ার পর গিয়ার পরিবর্তন করতে না পারায় প্রশ্ন উঠেছে বাঁহাতি ব্যাটারের কার্যকারিতা নিয়ে।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সূর্যকুমার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিলকের এই মন্থর ব্যাটিং দলের কৌশলেরই অংশ, ‘আমি তাকে বলেছি, টিম ম্যানেজমেন্টও তাকে বলেছে যে এভাবেই ব্যাট করতে হবে। যদি একটি উইকেট পড়ে, তবে পাওয়ার-প্লেতে সে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলাটা খেলতে পারে।’
তবে দলের বিপর্যয়ে তিলককে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে জানিয়ে সূর্য বলেন, ‘কিন্তু যখনই দুই উইকেট পড়ে যায়, তখন তাকে কিছুটা দেখেশুনে খেলতে হয়। একটি জুটি গড়া এবং খেলাকে দশম ওভার পর্যন্ত টেনে নেওয়ার দায়িত্ব তার। এরপর আমাদের হাতে যথেষ্ট মারকুটে ব্যাটার আছে যারা বড় স্কোর গড়তে সক্ষম।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিলক নিজেও খুব একটা সন্তুষ্ট নন বলে মনে করেন অধিনায়ক। তবে তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সূর্যকুমার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত সে যেভাবে ব্যাটিং করছে তাতে সে নিজে খুশি নয়। গত কয়েকটা সেশনে সে অনেক পরিশ্রম করেছে। কিন্তু তাকে নিয়ে আমার কোনো উদ্বেগ নেই। ৩ নম্বরে সে ভারতের হয়ে দারুণ খেলছে এবং আমি নিশ্চিত সে ঘুরে দাঁড়াবে।’
তিলকের বদলে সঞ্জু স্যামসনকে খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে করা প্রশ্নটি হেসেই উড়িয়ে দেন সূর্য। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আপনি কি বলতে চাইছেন তিলকের জায়গায় আমার স্যামসনকে খেলানো উচিত?’
পাওয়ার-প্লেতে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে উচ্চাশার বিষয়ে সূর্যকুমার বলেন, ‘পাওয়ার-প্লেতে আমরা ৪০-৫০ রান করছি, যা স্বাভাবিক। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আমরা এত ভালো খেলেছি যে এখন সবার প্রত্যাশা ২২০ বা ২৫০ রান দেখার। কিন্তু বিশ্বকাপের উইকেটগুলো কিছুটা আলাদা এবং চ্যালেঞ্জিং। এখানে অফ-স্পিনাররা কার্যকর হয়ে উঠছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আশা করি সুপার এইটে ভালো করব।’
বোলিং ইউনিটের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণ নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা যদি ১৭০-১৮০ রানও করি, তবে আমাদের বোলাররা সেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে।’