মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির একজন ছিলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সদর আলী (৫০)। বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে তারাবির নামাজের পর ঈদের কেনাকাটা নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর সেহরির সময় পরিবার পায় তার মৃত্যুর খবর।
শুক্রবার ভোরে খবরটি পাওয়ার পর শোকাহত হয়ে পড়ে পুরো পরিবার।
বানিয়াচং উপজেলার মহব্বতখানি গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে সদর আলী। জীবিকার সন্ধানে প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে মালদ্বীপে যান তিনি। তার আয়ের ওপরই নির্ভর করত পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যরা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারাবির নামাজের পর সদর আলী ফোনে সবার সঙ্গে কথা বলেন। ঈদের কেনাকাটাসহ বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা হয় সেদিন।
সদর আলীর বড় মেয়ে রিয়া আক্তার বলেন, ‘বাবা রাতে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ঈদের কেনাকাটা নিয়ে পরিকল্পনার কথাও বলছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর আমি আর মা একসঙ্গে সেহরি খাচ্ছিলাম। তখন মালদ্বীপ থেকে বাবার নম্বর থেকে ফোন আসে।’
তিনি বলেন, ‘আমি ফোন ধরার পর ওরা পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তখন আমার ভাই উদয় কথা বলে। পরে আমরা জানতে পারি, বাবা আর নেই। খবর শুনে সবাই খাবার রেখে কান্নায় ভেঙে পড়ি।’
সদর আলীর পরিবারে স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে রিয়া ডিগ্রি পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। অন্য মেয়ে এলিজা আক্তার ও ছেলে উদয় মিয়া বানিয়াচংয়ের ডক্টর ইলিয়াস একাডেমিতে নবম শ্রেণিতে পড়েন।
প্রতিবেশীরা জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে সদর আলী প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।
প্রতিবেশী মোবাশ্বির আহমেদ মজনু বলেন, সদর আলীর উপার্জনের বড় অংশই পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনায় ব্যয় হতো। ঋণের বোঝাও তখনো পুরোপুরি শোধ হয়নি।
তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত সদর আলীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকাহত পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।