সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার। ধর্ষণ ও হত্যার এই ঘটনার এত বছর পরও তার পরিবার এখনো বিচার প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছে, কিন্তু মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি সামান্য।
এক দশক পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। নেই কোনো গ্রেপ্তার, শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম—শোকাহত পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে।
গত ১০ বছরে চারপাশে অনেক কিছু বদলালেও তনুর মা আনোয়ারা বেগম তার মেয়ের হত্যার বিচার দাবিতে অনড় রয়েছেন।
কুমিল্লা সদর আদালতের (আমলি আদালত -১) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক পরবর্তী তারিখে তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে মামলার অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করছে।
বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘আদালত যেহেতু আমাকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছে, আমি ওই দিন উপস্থিত থাকব।’ মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিস্তারিত আদালতেই উপস্থাপন করা হবে।
কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, আগামী ৬ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এরইমধ্যে শুনানির ৭৮টি তারিখ পার হয়েছে এবং চারটি ভিন্ন সংস্থার ছয়জন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করেছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি এবং ১০ বছরেও বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইবার ময়নাতদন্ত করা হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।
তার পোশাকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেলেও তদন্তকারীরা এখনো কোনো সন্দেহভাজনের সঙ্গে তা মেলাতে পারেননি।
এই ঘটনা সারা দেশে তীব্র আন্দোলনের সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে রাজপথে নেমে আসে। সে সময় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলেও, সেই আশ্বাস বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত দুই বছরে কোনো পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমি জানিই না এখন কে মামলাটি তদন্ত করছেন।’
নতুন সরকার গঠনের পর তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার হয়তো ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন তদন্তে দীর্ঘসূত্রতায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমার ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছে, স্পাইন অপারেশন হয়েছে। দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। আগে সেনাপ্রধান আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন হত্যার বিচার হবে। সিআইডির আবুল কাহার আখন্দও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আশার আলো এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।’