ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৫৯০ জন দরিদ্র নারীকে সুবিধাভোগী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার সারা দেশে এই পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শর্তসাপেক্ষে কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারী এই সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক জরিপ চালানো হয়।
প্রাথমিক তালিকায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম আসে। আইডি কার্ডের জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় স্কোরের ভিত্তিতে ৫৯০ জন যোগ্য নারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে।
রহিমানপুর গ্রামের মারজিনা বেগম (৫০) বলেন, আমার স্বামী স্থায়ী কোনো কাজ করেন না। পাঁচজনের সংসারে খুব কষ্টে দিন কাটছিল। কার্ডটা পেলে অন্তত নিত্যদিনের চাল-ডাল কেনার চিন্তা কিছুটা কমবে।
বর্গাচাষী পরিবারের রাজিয়া সুলতানা (৩২) জানান, তাদের তিন সন্তান পড়াশোনা করছে। এই ভাতার টাকা সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে বড় সহায়তা হবে।
ওই গ্রামের সুবিধাভোগীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই তালিকায় নাম তুলতে তাদের কোনো টাকা বা ঘুষ দিতে হয়নি।