যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের পথ সুগম করতে প্যারিসে আলোচনা শুরু করেছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠকের আগে আজ রোববার বাণিজ্যিক বিরোধের জটিলতা কমানোর পথ খুঁজতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের নেতৃত্বে এই আলোচনা চলছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির পরিবর্তনসহ, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্চের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রোববার সকালে প্যারিসে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) সদরদপ্তরে দুই পক্ষের আলোচনা শুরু হয়। তবে সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ৩৮টি দেশ নিয়ে গঠিত এই জোটের সদস্য নয় চীন। দেশটি নিজেকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।
যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, আলোচনার জন্য প্রস্তুতির সময় কম। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের মনোযোগ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে থাকায় প্যারিসের এই বৈঠক কিংবা সম্ভাব্য বেইজিং সম্মেলনে বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতির সম্ভাবনা সীমিত।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীনবিষয়ক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, উত্তেজনা না বাড়ানোর লক্ষ্যেই উভয় দেশ বৈঠকটি করছে। সম্পর্ক পুরোপুরি যেন ভেঙে না পড়ে সে বিষয়েও তারা সতর্ক।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর ট্রাম্প ও শি আরও তিনবার সাক্ষাৎ করতে পারেন। এর মধ্যে নভেম্বরে চীনের আয়োজিত এপেক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত জি–২০ সম্মেলন উল্লেখযোগ্য—যেখানে আরও বাস্তব অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।