টানা ১৬ দিন ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে ইরানের শাসকরা ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের জনগণের মুক্তির সংগ্রামে সহায়তা করতে সেনা পাঠাবেন তিনি।
ট্রাম্পের নানা উসকানিমূলক কথার ‘প্রতীকী’ জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্স।
ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম এক্সে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি কার্টুন পোস্ট করা হয়েছে।
কার্টুনটিতে প্রাচীন মিশরে মমি সংরক্ষণের বিশেষ কফিনে (সারকোফ্যাগাস নামে পরিচিত) ট্রাম্পের একটি ভঙ্গুর মূর্তি দেখানো হয়েছে।
দেখে মনে হয় একটি পিরামিডের ভেতর ট্রাম্পের মুখাবয়ব সম্বলিত একটি সারকোফ্যাগাস রাখা হয়েছে। তবে ছবিতে কোনো মমি বা মানুষ দেখানো হয়নি।
কার্টুনে চিত্রিত দেওয়াল ও সারকোফ্যাগাসের গায়ে প্রাচীন মিশরীয় লিপি হায়রোগ্লিফিক্স দৃশ্যমান।
কার্টুনের সঙ্গে একটি বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে প্রাচীন মিশরের ফেরাউনের মতো ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তী শাসকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অত্যাচারী শাসক নমরুদের কথাও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘তারা যখন সবচেয়ে গৌরবময় অবস্থানে ছিলেন, তখন তাদেরকে উৎখাত করা হয়েছিল’।
এমন কী, পাহলভি রাজবংশের প্রথম ও দ্বিতীয় শাহ রেজা খান ও মোহাম্মদ রেজার কথাও বলা হয়েছে ওই বার্তায়।
খামেনির অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা বার্তায় বলা হয়, ‘যে ব্যক্তি গর্ব ও অহমিকার সঙ্গে ওখানে বসে গোটা বিশ্বের বিচার করছেন, তার জানা উচিৎ, যে ফেরাউন, নমরুদ, রেজা খান ও মোহাম্মদ রেজার মতো পৃথিবীর সকল স্বৈরাচারী ও অহংকারী মানুষকে গৌরবের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে উৎখাত করা হয়েছে। একেও (ট্রাম্প) উৎখাত করা হবে।’
এর আগে, তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায় তবে তারা পাল্টা জবাব দেবে।
বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। তবে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা তাকে ফোন করেছেন এবং তারা ‘আলোচনা করতে চান’।
তবে তিনি যোগ করেন, বৈঠক হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’।
যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে রোববার তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই কঠোর কিছু বিকল্প নিয়ে ভাবছি।’
বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সহযোগী সিবিএসকে এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে থাকতে পারে অনলাইনে সরকারবিরোধী উৎসগুলোকে জোরদার করা, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, অথবা আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
চলমান বিক্ষোভ নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন অধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তেহরান-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের অস্থিতিশীল। খামেনির এই সর্বশেষ ‘উসকানিতে’ ট্রাম্প কি প্রতিক্রিয়া দেখান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।