ছবিতে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা

Date:

ইরানের ওপর আজ শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য আবারও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কায় দাঁড়িয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা, পারমাণবিক আলোচনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই হামলা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, ইরানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, অভিযানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অপারেশন।

তেহরানে বিস্ফোরণ, জরুরি অবস্থা

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং রিপাবলিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। হামলার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য ইন্টারনেট বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। তেল আবিব আশঙ্কা করছে, ইরান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

প্রতিরোধ না প্ররোচনা?

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধের অংশ।

তবে সমালোচকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ সরাসরি ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে রূপ দিতে পারে।

রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনা ছিল সামরিক অভিযানের আগে একটি ‘আড়াল’ মাত্র। তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ সংহতির বার্তা তেহরানের

হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সরকারপন্থী সমাবেশের পূর্বধারণকৃত ভিডিও প্রচার শুরু করে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি ‘শত্রুদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য’ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য অভ্যন্তরীণ জনমত প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই সংঘাত এখন সরাসরি রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। গাজা যুদ্ধ, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় প্রক্সি সংঘাতের পর এবার ইরান সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

ইরান যদি বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

সামনে কী?

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে। পাল্টা হামলা সীমিত থাকবে, নাকি তা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনের ঘটনাপ্রবাহ।

একটি বিষয় স্পষ্ট, আজকের এই হামলা শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

Popular

More like this
Related

ইসরায়েল লক্ষ্য করে আরেক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান—এমন...

ইরানের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মার্কিন ঘাঁটি

ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় আবারও...

ইতিহাস সাক্ষী, আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করিনি: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানের...

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন অবস্থায়...