বৈশ্বিক নানা বিধিনিষেধ, অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও গত বছর বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি বা শ্রম অভিবাসন প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যের ভিত্তিতে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ট্রেন্ডস, অ্যাচিভমেন্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব লেবার মাইগ্রেশন ফ্রম বাংলাদেশ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি কর্মীরা বিশ্বের ১৪১টি দেশে গেলেও প্রায় ৯০ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। এগুলো হলো সৌদি আরব, কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও মালদ্বীপ। প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে প্রবাসী কর্মীরা রেকর্ড ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে নারী শ্রম অভিবাসন কমে যাওয়াকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে রামরু। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে মাত্র ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন, যা মোট অভিবাসনের মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ। বিদেশে অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং নেতিবাচক প্রচারণাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট জনশক্তি রপ্তানির মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ পেশাজীবী ও দক্ষ কর্মী। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাধা হিসেবে প্রশিক্ষণের নিম্নমান, দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনাগ্রহকে দায়ী করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করে তারা বলেছে, বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ থাকলেও তা কমানো হয়েছে এবং বরাদ্দের বেশির ভাগই অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে, কর্মী সুরক্ষা বা সেবায় নয়।
প্রতিবেদনে অনিয়মিত অভিবাসন এবং অভিবাসীদের মৃত্যুর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের শুরুর দিক পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছেছেন, যা অন্য যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।