এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মঙ্গলবার সিডনিতে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তবে ফলাফলের চেয়ে পারফরম্যান্সেই বেশি গর্ব খুঁজে পেয়েছেন বাটলার। তার ভাষায়, এই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে কতটা এগিয়েছে তার দল।
ম্যাচের দীর্ঘ সময় ধরে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষদিকে দুই গোল হজম করার আগে পর্যন্ত চীনকে আটকে রাখে তরুণীরা। যদিও বাটলার স্বীকার করেছেন, কিছু সময় এমন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘চীন সম্ভবত এশিয়ার সেরা দল, না হলেও সেরাদের একটি। তাদের অভিনন্দন। কিন্তু এমন সময় ছিল, যখন মনে হচ্ছিল তারা আমাদের ওপর চেপে বসবে। তখনও আমরা হাল ছাড়িনি। ম্যাচের আগে আমি মেয়েদের বলেছিলাম, নিজেদের সেরাটা দাও, নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো।’
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মনোযোগের ঘাটতিতে গোল খাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলের ঘুরে দাঁড়ানো তাঁকে আশাবাদী করেছে। ‘৪০ মিনিটের মতো সময় তাদের আটকে রাখা সহজ ছিল না। এরপর সামান্য মনোযোগ হারিয়েছি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমি ভীষণ গর্বিত। তারা দেশের জন্য, জার্সির জন্য লড়েছে। এটা প্রমাণ করে আমরা কতটা এগিয়েছি।’
দলের খেলার ধরণ বদলানোর কোনো ইচ্ছাই নেই বাটলারের। হাই লাইন ডিফেন্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তিনি অনড়, ‘দেড়-দুই বছরে আমরা শুধু সাফল্য পাইনি, উন্নতিও করেছি। আমি আমাদের পরিচয় বদলাব না।’
মাত্র ১৯ বছর গড় বয়সের একটি দল নিয়ে এমন পারফরম্যান্সকে তিনি দেখছেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হিসেবে। “আজকের ম্যাচটা ছিল একধরনের ‘স্টেটমেন্ট’ পারফরম্যান্স। এত তরুণ একটি দল, যাদের গড় বয়স ১৯। চীনের খেলোয়াড়রা অনেক অভিজ্ঞ, ২৫-২৬ বছর বয়সী। অভিজ্ঞতার ব্যবধান ছিল স্পষ্ট।’
গ্রুপ ‘বি’-তে আগামী শুক্রবার সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে। বাটলার জানেন চ্যালেঞ্জ কতটা বড়। ‘তারা অসাধারণ দল। ম্যাচ কঠিন হবে। কিন্তু ফল যাই হোক, আমরা আমাদের পথ বদলাব না।’
ফলাফল হয়তো হার বলছে, কিন্তু বাটলারের চোখে এটি একটি যাত্রার অংশ, যেখানে উত্থান-পতন, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বাংলাদেশ নারী দল এগিয়ে চলেছে সামনে। তার আশা, এই টুর্নামেন্ট হবে বাংলাদেশের প্রতিভাবান মেয়েদের জন্য বড় মঞ্চ। ‘এটাকে সুযোগ হিসেবে নাও। বিশ্বকে দেখাও, বাংলাদেশে কত প্রতিভা আছে। দরকার শুধু একটি জানালা, একটি সুযোগ।’