ইরান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তাধারা যেন মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে। একবার শোনা যায়, ‘ইরানে হামলার দ্বারপ্রান্তে’ যুক্তরাষ্ট্র। আবার পরের মুহূর্তে দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলে বসেন, ‘সহিংসতা নয়, আলোচনা কাম্য।
কেউ কেউ বলছেন, ইরানে হামলার জন্য শুধু ছুতা খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিশ্বনেতা ট্রাম্প।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘নাটকের’ শান্তিপূর্ণ যবনিকাপাত হবে, এই আশাতেই আছে গোটা বিশ্ববাসী। ভঙ্গুর হলেও বেশ কিছুদিন ধরে চালু আছে গাজার তথাকথিত শান্তিচুক্তি। লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনও শান্ত হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় ইরানে নতুন করে সংঘাত শুরু হোক, এটা কেউই চান না।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, আগামী বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ওমান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি নিজের সামাজিকমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, ‘(ইরানের পরমাণু) চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য যে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া দরকার, সেটার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে’ আলোচনা আবারো শুরু হতে যাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য ‘শান্তি চুক্তি’র জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকাটে প্রথম দফা আলোচনার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
এবার তৃতীয় দফার আলোচনার ঘোষণা এলো।
তেহরান জানিয়েছে, আগামী ‘দুই-তিন’ দিনের মধ্যে নতুন পরমাণু চুক্তির জন্য তারা প্রস্তুত। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুদ্ধের ওপরই যেন বেশি জোর দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
শান্তির মাধ্যমে যা সমাধান করা সম্ভব তার জন্য যুদ্ধ কেন? এটি কি শুধুই ইরানকে চাপে ফেলার কৌশল? নাকি ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্ষতি করার নীতি? এমন প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ফক্স নিউজ জানিয়েছিল—ইরানকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প, কিন্তু, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি হামলার আগে সময় নেওয়ার কৌশল হতে পারে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি ফেরাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’ সভায় সম্ভাব্য অশান্তির প্রস্তাব দিয়ে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তিনি তেহরানকে সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য ‘১০ দিনের’ সময় বেঁধে দেন। তা না হলে ‘ফলাফল’ ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন।
শান্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকার পরও ট্রাম্প কোনো ছুতা তুলে ইরানে হামলা করে বসেন কিনা—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তবে শান্তিকামী জনমানুষের আশা, অন্তত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শান্ত থাকবেন বিশ্বনেতা ট্রাম্প। হয়তো সেদিনই নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হবে। নেমে আসবে শান্তি।