গ্রিসে ২ বছরে প্রায় ৫ লাখ গবাদি পশু হত্যা

Date:

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্রিসে চার লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি ভেড়া ও ছাগল হত্যা করা হয়েছে। 

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া বসন্ত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনতে এই উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। 

খামারিদের ভাষ্য, ব্যাপক ভাবে গবাদি পশু হত্যার সিদ্ধান্তে মাংস ও দুধ উৎপাদন কমেছে। 

যার ফলে গ্রিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ফেটা (পনির) হুমকির মুখে পড়েছে। 

গ্রিসের উচ্চমানের পনির উৎপাদন শিল্প অনেকাংশে মেষপালকদের ঘরে ঘরে পালিত ভেড়া ও ছাগলের দুধের ওপর নির্ভরশীল। 

 

গণহারে গবাদি পশু হত্যার ফলে গ্রিক মেষপালকদের অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সংশ্লিষ্ট শিল্পের ওপরও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। 

এ বিষয়ে কস্তাস থিওফিলোউ নামের খামারির সঙ্গে এএফপির প্রতিবেদক কথা বলেন। থিও তার খালি আস্তাবলের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। 

তিনি বলেন, ‘তিনটি পরিবারের জীবিকা প্রাণীগুলোর ওপর নির্ভর করত। দেখুন তারা আমার কত বড় ক্ষতি করেছে। ৫৫ বছর বয়সে আমি এখন নতুন করে কি কাজ করব?’

থিওফিলোউ-এর খামার একসময় ভেড়ার ম্যা ম্যা ডাক ও তাদের গলায় বেঁধে রাখা ঘণ্টার শব্দে মুখরিত ছিল। কিন্তু এখন পুরো খামারে এক আধিভৌতিক নীরবতা নেমে এসেছে। 

 

মেষপালকের নিত্যসঙ্গী কুকুরগুলোও এখন মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়ায়। 

এএফপিকে থিওফিলোউ বলেন, ‘আমি আজীবন মেষপালকের কাজ করেছি। অন্য কোনো কাজ করার স্মৃতি নেই। আমি শুধু ভেড়াই চিনি।’

ফেটা পনির উৎপাদনের ৪৫ শতাংশ হয় থেসালি অঞ্চলে। মূলত ভেড়া ও ছাগলের দুধ থেকে তৈরি হয় এই অভিজাত ও পুষ্টিকর খাবার। 

বসন্ত মহামারি বড় আকারে পনির উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে। 

পনির উৎপাদনকারীরা জানান, এ বছর দুধ উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমে গেছে।  

মহামারি যাতে ছড়াতে না পারে, এ জন্য কর্তৃপক্ষ গবাদি পশু মালিকদের জন্য নানা বিধিনিষেধ চালু করেছে।

এই নীতি অনুসারে, আগের মতো গবাদি পশুকে উন্মুক্ত মাঠে চরে বেড়াতে দেওয়া যাবে না। 

 

যেসব খামারির নিজস্ব চারণভূমি আছে, তারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। 

বাকিদের বলা হয়েছে নিজ আস্তাবলে রেখে প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে। 

৫৯ বছর বয়সী খামারি জর্জস জেনিটাইডিস জানান, ‘৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রাণীদের খামার থেকে বের করিনি।’

তবে সাম্প্রতিক সময়ে শীতল আবহাওয়ার কারণে মহামারির প্রকোপ কমে এসেছে। পাশাপাশি, অনেক খামারি তাদের গবাদি পশুগুলোকে বুলগেরিয়া ও তুরস্ক থেকে আনা টিকা দিচ্ছেন। এতেও ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে পশুবিজ্ঞানীরা যুক্তি দেন। 

গ্রিসে এ ধরনের টিকার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও খামারিরা জীবন জীবিকা বাঁচাতে ঝুঁকি নিচ্ছেন।

Popular

More like this
Related

পিএসএলে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, ফেঁসে যাচ্ছেন ফখর জামান

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে বল...

ইতালিতে ১২ টন কিটক্যাট চকলেট চুরি

ইউরোপে পরিবহনের সময় কিটক্যাট চকলেটের একটি বড় চালান চুরি...

ভুয়া প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিএমইউর পরিচালক হওয়ার চেষ্টা, যুবক আটক

শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির...

এবার অস্ট্রিয়াতেও শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ সমাজমাধ্যম

চার মাসেরও কম সময় আগে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম...