গাইবান্ধা শহরের জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে এক যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আজ রোববার গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ-আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গতকাল ভিকটিম মুর্শিদ হাক্কানীর (৩৭) বড় ভাই মো. আওরঙ্গ বাদী হয়ে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন।
মামলার পাঁচজন আসামি হলেন—বাঁধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) ও তালহা (৩৫)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, কেন্দ্রে ভর্তির প্রথম দিকে মুর্শিদের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ করতে দিলেও পরবর্তী সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাদী মুর্শিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রথমে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে লোকজন ডাকলে দেখা করতে দেওয়া হয়। সে সময় মুর্শিদ জানান—চিকিৎসা না দিয়ে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। আসামিরা গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদের মুখে কাপড় গুঁজে গ্রিলের সঙ্গে দুই পা উল্টো করে বেঁধে মারধর করেন।
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রের কাউন্সেলর ও মামলার আসামি বাঁধন বলেন, মুর্শিদ আমাদের পুরোনো রোগী। পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি সব সময় খুবই এগ্রিসিভ ও ডিপ্রেসড থাকেন। এর আগে দুইবার তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষবার তার পরিবারের লোকজন জোর করে তাকে এখানে ভর্তি করে।
নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুর্শিদ প্রায় অন্য রোগীদের মারধর ও গালিগালাজ করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি গালিগালাজ ও মারধর করলে ১৫-১৬ জন রোগী একত্রিত হয়ে তাকে মারধর করেন। সে সময় আমার স্টাফরা তাকে রক্ষা করতে পারেননি। তাদেরও গাফিলতি রয়েছে।
ওসি আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন, মুর্শিদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।