বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে দলের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ জানান।
পোস্টে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়; এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি। এ পদের ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে তোলা।
জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতা বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর মানুষ যখন কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল।
তিনি মনে করেন, কোটা আন্দোলন কেবল কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি মূলত মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
নতুন গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অল্প সময় আগে তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকার (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি ওই ব্যক্তি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় পোস্টে।
জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা ইতোমধ্যে স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দিলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সতর্ক করে বলেন, শক্তিশালী, স্বাধীন ও দক্ষ নেতৃত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ এবং মেধা-যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত দেশীয় আস্থা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আস্থার সংকট তৈরি করে।
মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন—এ প্রশ্ন এখন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
দেশের অর্থনীতির জন্য যখন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।