কিউবা ‘দখলে নিতে চান’ ট্রাম্প

Date:

কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে থাকা কিউবাকে ‘দখলে নিতে চান’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার তিনি কিউবা দখলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি—কিউবাকে দখলে নেওয়ার সম্মান আমারই হবে। আমি সেটাকে মুক্ত করি বা দখলে নিই—সত্যি বলতে আমি যা চাই তা-ই করতে পারি বলে মনে করি। তারা এখন খুবই দুর্বল একটি দেশ।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় সাত দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করে আসা কিউবার কমিউনিস্ট সরকার বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর চাপের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক তেল অবরোধ দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।

কিউবার বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন নাসিওনাল ইলেকট্রিকা দে কিউবা (ইউএনই) জানিয়েছে, ‘জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার’ কারণে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

৯৬ লাখ মানুষের দেশটিতে জ্বালানির সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও পর্যটন খাতেও। ৯ জানুয়ারি থেকে দেশে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয়েছে।

৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ট্রাম্পের শুরু হওয়া তেল অবরোধ কিউবার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে কিউবা সরকার কিছু সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, প্রবাসী কিউবানদের এখন দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার মালিক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবানদের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতিতে দেশজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারীরা একটি প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে জানায় এএফপি।

রাতের বিক্ষোভে অনেকে হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে ‘লিবারতাদ’ বা স্বাধীনতার স্লোগান দিচ্ছেন—যা নতুন ধরনের প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

মোরন শহরে হামলার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ইনভাসর।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেল স্বীকার করেছেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের মধ্যে ‘অসন্তোষ তৈরি হয়েছে’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পেট্রোল বিক্রি সীমিত করেছে এবং কিছু হাসপাতালের সেবাও কমিয়ে দিয়েছে।

দিয়াজ কানেল জানান, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অসাধারণ হুমকি’ তৈরি করায় এই তেল অবরোধ দেওয়া হয়েছে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা খুব শিগগিরই হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো যা করার দরকার তা-ই করব।’

Popular

More like this
Related

ট্রাম্পের হুমকির পর কিউবার পাশে থাকার ঘোষণা রাশিয়ার

ইরান যুদ্ধ চলাকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর পড়েছে...

ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’ কেশম দ্বীপে আরও যা আছে

গ্রিক পুরানের কিংবদন্তি চরিত্র এরিথ্রাসের প্রাচীন সমাধির জন্য একসময়...

ছেলে-ভাতিজাকে নিয়ে পিকআপ ভ্যানে মানিকের ঈদযাত্রা

১৭ বছরের ছেলে রয়েলকে নিয়ে সাভারের একটি কার্টন ফ্যাক্টরিতে...

ট্রেইলার-গানে জমজমাট ঈদের ৬ সিনেমা

ঈদে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া ছয়টি সিনেমাকেই প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে...