অধিনায়ক মিচেল মার্শের ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে শুক্রবার ক্যান্ডিতে ওমানকে ৯ উইকেটে বিধ্বস্ত করল অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবারের হতাশাজনক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি টানল।
মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় পাওয়ার প্লের মধ্যেই মার্শ তার ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ২৬ বলে। তার আগ্রাসী ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও সাতটি চারের মার। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে যাওয়া ওমানকে ১৬.৪ ওভারে ১০৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর মাত্র ১ উইকেট খুইয়ে ৬২ বল হাতে রেখেই অনায়াসে জিতেছে অজিরা।
আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড ১৯ বলে ৩২ ও জশ ইংলিশ ৬ বলে অপরাজিত ১২ রান করে মার্শকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তবে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বর দল ওমানের বিপক্ষে এই জয় অস্ট্রেলিয়ার এলোমেলো ও ব্যর্থ বিশ্বকাপে কেবল সামান্য সান্ত্বনা হয়েই থাকবে। এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম পর্ব থেকে ছিটকে গেছে খর্বশক্তির অস্ট্রেলিয়া। তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ে ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার কাছে হার তাদের এই অপ্রত্যাশিত বিদায় নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচশেষে মার্শ বলেন, ‘আমি আগেও কয়েকবার বলেছি, ড্রেসিংরুম এখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত। সব দলের মতোই আমরা দুই বছর ধরে এই আসরের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি।’
পাকিস্তানের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়ে এবং চোটগ্রস্ত দুই তারকা পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডকে ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া এবারের বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল। এরপর অনুশীলনের সময় চোট পেয়ে অণ্ডকোষে রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি অধিনায়ক মার্শ।
গত মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় পর যখন অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন দেশটির সংবাদমাধ্যম দল নির্বাচনে ‘ভুলভাল সিদ্ধান্তের’ কড়া সমালোচনা শুরু করে। এর মূলে ছিল ফর্মহীন ক্যামেরন গ্রিনকে দলে ধরে রাখা এবং হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গত ডিসেম্বর থেকে মাঠের বাইরে থাকা টিম ডেভিডকে ‘পাওয়ার হিটার’ হিসেবে ব্যাটিং লাইনআপের চার নম্বরে খেলানো।
অতীতে বহু ম্যাচে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল রান পেতে ধুঁকেছেন। পাশপাশি অস্ট্রেলিয়া কামিন্স ও হ্যাজলউডের অভিজ্ঞতার অভাব প্রকটভাবে অনুভব করেছে। এমনকি গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে দলটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ম্যাট রেনশকে গত সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বিস্ময়করভাবে বাদ দেওয়া হয়।
এদিন টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর জাভিয়ের বার্টলেট ইনিংসের প্রথম বলেই আমির কলিমকে বোল্ড করে অজিদের উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন। পেসার বার্টলেটের ২৭ রানে ২ উইকেট এবং লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার ২১ রানে ৪ উইকেটের বিপরীতে ওমান সুবিধা করতে পারেননি। তাদের পক্ষে ওয়াসিম আলী ৩৩ বলে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন।
ম্যাচসেরা হওয়া জাম্পা বলেন, ‘গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন কেটেছে। দলের সবাই এখন চুপচাপ হয়ে আছে। এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় আমরা খুব ভেঙে পড়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই হতাশ। সত্যি বলতে, আগামীকালই দেশে ফেরার ফ্লাইটে ওঠার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।’