এলিয়েন ও ইউএফও সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

Date:

কয়েক দশক ধরে মার্কিনিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অজানা উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) ও ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন) সম্পর্কিত সরকারি নথি ‘সনাক্ত ও প্রকাশের’ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এএফপি বলছে, ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘মানুষের বিপুল আগ্রহ থাকায় আমি যুদ্ধবিষয়ক সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে ভিনগ্রহের প্রাণী ও বহির্জাগতিক জীবন, অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা (ইউএপি) এবং অজানা উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সম্পর্কিত সরকারি নথি সনাক্ত ও প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেবো।’

তবে শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফায়েড) নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি আরও বলেন, এসব নথিতে ‘অত্যন্ত জটিল হলেও ভীষণ আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

এর আগে, একই দিনে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তার ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি বারাক ওবামা সম্প্রতি এক পডকাস্টে ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে ‘শ্রেণিবদ্ধ’ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

নেভাদায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপন সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে ইউএফও সংক্রান্ত বহু ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচলিত আছে।

ওই পডকাস্ট সঞ্চালক ব্রায়ান টাইলার কোহেনকে ওবামা বলেন, ‘ওগুলো বাস্তব, তবে আমি নিজে দেখিনি এবং সেগুলো এরিয়া ৫১-এ লুকিয়ে রাখা হয়নি।’

ওবামা আরও বলেন, ‘সেখানে কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নেই। অবশ্য যদি বিশাল কোনো ষড়যন্ত্র থেকে থাকে এবং তারা তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও গোপন রাখে, সেটা ভিন্ন কথা।’

গতকাল এ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ওবামা ‘শ্রেণিবদ্ধ তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা তার করা উচিত হয়নি।’

তবে ওবামার বক্তব্যের কোন অংশটি শ্রেণিবদ্ধ, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি, শুধু দাবি করেন, ‘তিনি বড় ভুল করেছেন।’

ভিনগ্রহের প্রাণী বিষয়ে নিজের বিশ্বাস প্রসঙ্গে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা সত্যি কি না, আমি জানি না।’

পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্বের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএফও ও ইউএপি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বহু রহস্যময় উড়োজাহাজ-সদৃশ ঘটনার তদন্ত করেছে, যেখানে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাতে পারে।

২০২৪ সালের মার্চে পেন্টাগন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইউএপি যে ভিনগ্রহের প্রযুক্তি, এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। অনেক সন্দেহজনক ঘটনার পেছনে আবহাওয়াবিষয়ক বেলুন, গোয়েন্দা বিমান, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম জড়িত ছিল।

Popular

More like this
Related

​’ভারত সেমিতে যেতে পারবে না’, ফের বললেন আমির

ভারতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে নিজের করা বিতর্কিত মন্তব্যে অটল...

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করলেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করলেন...

৭৪ বছরে প্রথমবার শহীদ মিনারে জামায়াত, ব্যাখ্যায় যা বললেন দলের আমির

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রথম...

গুলশানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ড. ইউনূস, সময় দিচ্ছেন পরিবারকে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কিছুটা...