কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল ও ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ নৈপুণ্যে মোনাকোকে ৬-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার রাতের এই বড় জয়ে ক্লাবের সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্বস্তিতে ফিরল লস ব্লাঙ্কোরা।
ঘরের মাঠে লেভান্তের বিপক্ষে গত ম্যাচে সমর্থকদের দুয়ো শোনা ভিনিসিউস এদিন ছিলেন উজ্জ্বল। নিজে একটি দর্শনীয় গোল করার পাশাপাশি দলের বড় জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। এই জয়ে লিগ পর্বের শীর্ষ আটে থাকার লড়াইয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাল মাদ্রিদ।
গত সপ্তাহে জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে এটি দলের দ্বিতীয় জয়। এদিন ‘তার’ দল আক্রমণভাগে গতির ঝড় তোলে। গোল পেয়েছেন জুড বেলিংহাম ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোও। এছাড়া থিলো কেহরারের আত্মঘাতী গোলে চলতি মৌসুমে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সের দেখা পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
মাদ্রিদের কঠিন সময়েও এমবাপে ছিলেন ছন্দে। এই ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে ইউরোপীয় গোলদাতার তালিকায় নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলেন তিনি। আরবেলোয়ার প্রথম ম্যাচে আলবাসেতের কাছে হারের সময় দলে না থাকলেও ফেরার পর টানা দুই ম্যাচে জালের দেখা পেলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৫ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন এমবাপে। ফেদে ভালভার্দের পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। যে মোনাকো থেকে বিশ্বমঞ্চে ‘তার’ উত্থান হয়েছিল, সেই সাবেক ক্লাবের জালে বল জড়িয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এমবাপে।
মোনাকোর হয়ে ধারে খেলা বার্সেলোনা তারকা আনসু ফাতি ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেলেও সফল হননি। উল্টো প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান বাড়ায় মাদ্রিদ। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও আরদা গুলারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণ থেকে ভিনিসিউসের পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে।
বিরতির পর দাপট ধরে রাখে রিয়াল। মাস্তানতুয়ানো স্কোরলাইন ৩-০ করার পর ৫৫ মিনিটে থিলো কেহরারের আত্মঘাতী গোলে মোনাকোর ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায়। এরপর আরবেলোয়ার আস্থার প্রতিদান দিয়ে দলের পঞ্চম গোলটি করেন ভিনিসিউস। শীর্ষ কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে সমর্থকদের সকল ক্ষোভের জবাব দেন এই ব্রাজিলিয়ান।
ম্যাচের শেষ দিকে দানি সেবালোসের ভুলে মোনাকোর হয়ে একটি গোল শোধ করেন জর্ডান তেজ। তবে ৮০ মিনিটে জুড বেলিংহাম গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ালে ৬-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় মাদ্রিদের।