‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কতটা

Date:

একদিকে যখন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মূল ন্যাটো ‘ভেঙে পড়া’র আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে তখন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘আওয়াজ’ উঠেছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ে তোলার।

কারো মতে—গত বছর সেপ্টেম্বরে ধনী দেশ কাতারে অপ্রত্যাশিত ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আরব নেতাদের ভাবনা থেকে নতুন সামরিক জোটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে এর নাম দিয়েছেন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বা ‘মুসলিম ন্যাটো’।

আবার কেউ কেউ মনে করেন—মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি সামরিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব মিত্রদের নিয়ে যে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে, তাই ‘আরব ন্যাটো’ বা ‘মধ্যপ্রাচ্যের ন্যাটো’।

ন্যাটো বলতে বোঝায়—নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই তথা ১৯৪৯ সালে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য এই সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়।

সে বছর ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ডিসিতে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেছিলেন, সেই চুক্তিই প্রথমদিকে ‘ওয়াশিংটন চুক্তি’ ও পরে ‘উত্তর আটলান্টিক চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত পায়।

চুক্তিটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এখন এর সদস্য সংখ্যা ৩২। এই ন্যাটোর সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় পরাশক্তি রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

নতুন বছরের শুরুতেই মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প অপর ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দখল করার হুমকি দেওয়ায় প্রায় ৭৭ বছর পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সামরিক জোটটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

এক ন্যাটো ভাঙার আশঙ্কার মধ্যে জানা যাচ্ছে আরেক ‘ন্যাটো’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনার সংবাদ। অর্থাৎ, ন্যাটোর আদলে মুসলিম দেশগুলো নিয়ে নতুন সামরিক জোটের সম্ভাবনা। মূল ন্যাটোর মতোই এই সম্ভাব্য ‘ইসলামিক ন্যাটো’র মূলনীতি হবে ‘কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা’।

নতুন এই সামরিক জোট সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন—সৌদি আরবের টাকা, পাকিস্তানের পরমাণু বোমা ও তুরস্কের সামরিক শক্তি সম্ভাব্য ‘ইসলামিক ন্যাটো’র মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠতে পারে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সমঝোতার পর চলতি বছরের শুরুতে তুরস্ক সেই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আলোচনা শুরু করায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ে ওঠার ভাবনা সামনে চলে আসে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে—ঘটনার শুরু ২০১৫ সালে। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে সৌদি আরবের নেতৃত্বে দেশটির রাজধানী রিয়াদে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক সহযোগিতা জোট ‘ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশন’ (আইএমসিটিসি) গঠিত হয়।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা আছে—সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সন্ত্রাস দমনে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় সহায়তার জন্য আইএমসিটিসি গড়ার ঘোষণা দেন।

পরের বছর মার্চে মুসলিম দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর প্রধানরা জোটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বর্তমানে এই জোটের সদস্য দেশ ৪৩টি। মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি ও আরব দেশগুলোর উন্নয়ন সংস্থা আরব লিগের সদস্যরা এই জোটে যোগ দিয়েছে।

জোটের উদ্দেশ্য আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। ইসলামের মূলনীতি সহনশীলতা ও সহমর্মিতা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা। সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী ভাবধারার বিপরীতে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার কথাও এতে বলা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন রোধ করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলেও ওয়েবসাইটে জানানো হয়।

উগ্রবাদ প্রতিরোধে এই জোট নানা ধরনের আলোচনা, কর্মশালা ও মতবিনিময়ের আয়োজন করে। এর সদরদপ্তর রিয়াদে।

জোটের সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কে এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে—সদস্য রাষ্ট্রের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক সম্পদের ব্যবহার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে।

এরপর থেকে আইএমসিটিসি’কে একটি সামরিক সহযোগিতা সংস্থা থেকে একটি কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত করার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আলোচনা করে যাচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়—যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সৌদি আরবের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। আবার নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে হতাশ সৌদি আরব। এ ছাড়াও, নিজ দেশের নিরাপত্তার জন্য দূরের প্রতিবেশী তুরস্ক ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে ধনী এই দেশটি।

বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে—এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব শুধু নতুন জোট তৈরির ঝুঁকিই নিচ্ছে না বরং মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের রুখতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১০ দেশের সামরিক জোটের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। তখনও অনেকে এই সামরিক জোটকে ভবিষ্যতের ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

তাই মোটা দাগে বলা যায়, ‘ইসলামিক ন্যাটো’ ভাবনাটি অন্তত ১০ বছর পুরোনো। এই দীর্ঘ সময়ে এমন কোনো জোটের রূপরেখা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে এখনো এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে—মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নাখোশ সৌদি আরব। ইসরায়েলের বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় সৌদি আরব নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় আঞ্চলিক জোট গড়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।

গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় ধনী দেশ ও মার্কিন মিত্র কাতারের রাজধানী দোহায় অপর মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের খনিজসমৃদ্ধ দেশগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘অনির্ভরযোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের অ্যারাব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন দিওয়ান জার্মান সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘কাতারে ইসরায়েলি হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক নাড়া খেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেই অঞ্চলের দেশগুলো নিজেরা ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সেখানকার তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর শাসকরা একই সংস্কৃতির ধারক-বাহক। তাই কোনো একটি দেশের ওপর হামলা যেন সবার ওপর হামলার সামিল।’

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ সানাম ভাকিল মনে করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা নিশ্চিত করার কথা ভাবছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়।

সে বছর ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের এক বিশ্লেষণের শিরোনাম করা হয়, ‘ইসলামিক ন্যাটোর’ সম্ভাবনা—সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি যেভাবে পুরো পরিস্থিতি পালটে দিতে পারে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক চুক্তি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা বদলে দিতে পারে। পরবর্তীতে এই জোটে অন্যান্য দেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

২০২৫ সালের ১৮ মার্চ লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক মতামত প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—’আরব ন্যাটো উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফাঁদ’।

এতে বলা হয়, এ ধরনের জোটের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ যে এটি দিন শেষে ‘ইরানবিরোধী’ জোটে পরিণত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ধনী আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘হাতের পুতুল’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, এই ধনী দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।

২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি ইরানি সংবাদ সংস্থা ফারস-এর বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছিল, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র সিরিয়ার আসাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের পিএমএফ ও ফিলিস্তিনের হামাসকে নিয়ে ‘ন্যাটো’র মতো একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

কিন্তু, ৪ বছর পর আজকের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে যে, এমন ভাবনা এখন ‘বিশ বাঁও’ পানির নিচে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলায় কাবু ইরান। পাশাপাশি, বিরোধীদের হামলায় সিরিয়া থেকে বাশার আল আসাদের পালিয়ে যাওয়া, ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ ও হামাসের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু এবং হুতিদের কোণঠাসা পরিস্থিতির পরও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গড়ার কথা সংবাদমাধ্যমে এখনো আলোচিত হচ্ছে।

তাই হয়ত অনেকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’কে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক কৌশল বা ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন।

গত ১৬ জানুয়ারি লন্ডনভিত্তিক অপর সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—সোমালিয়া ও মিশরের সঙ্গে সামরিক জোটের পথে হাঁটছে সৌদি আরব। এতে বলা হয়, এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে তাই সৌদি আরব একটি কৌশলগত জোট নিশ্চিত করতে চায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, চুক্তি চূড়ান্ত করতে সোমালিয়ার রাষ্ট্রপতি হাসান শেখ মোহামুদ শিগগির সৌদি আরব যাবেন। এর মাধ্যমে সৌদি আরব ও সোমালিয়ার সীমানাবর্তী লোহিত সাগরের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশ দুটির মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর এই সংবাদমাধ্যমটির অপর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—দোহা সম্মেলনে মিশরের ‘ন্যাটো’র মতো সামরিক জোট গড়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

মিশরের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মিশরের প্রস্তাব কাতার ও আরব আমিরাত প্রত্যাখ্যান করায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় আরব দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটিকে সেই কূটনীতিক বলেন, ‘১৯৫০ সালের যৌথ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির আলোকে বহিঃশত্রু বিশেষ করে ইসরায়েলের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রস্তাব মিশর দিয়েছিল। কিন্তু, কাতার ও আরব আমিরাত এতে বাধ সেধেছে।’

২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল এই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ গড়ার বিষয়ে প্রচারণা চালাতে সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রচারণা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি আরবের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে ধামাচাপা দিয়ে রিয়াদের নেতৃত্বে ‘মুসলিম ন্যাটো’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

গত ২১ জানুয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন রাখা হয়—সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ‘ইসলামিক ন্যাটো’কে ঠেকাতে ভারত-আমিরাত-ইসরায়েল জোট গড়ে উঠছে কি?

এতে আরও বলা হয়—ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম গোলার্ধ নিয়ে ব্যস্ত তখন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-আমিরাত-ইসরায়েলি জোটের বিষয়টি সামনে আসছে।

গত ২০ জানুয়ারি মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারত ও আমিরাত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে পরমাণু সহযোগিতা বাড়াতে রাজি। এতে বলা হয়, দুই দেশের নেতা গাজা ও ইয়েমেন নিয়েও কথা বলেছেন। তারা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের নিন্দা করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা চুক্তির পর পাকিস্তানের ‘চিরশত্রু’ ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী আমিরাতের সখ্যতায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।

এমন বাস্তবতায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ঠিক কতটা তা যেন এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

Popular

More like this
Related

ব্যক্তিগত পুরস্কার সব সময় দারুণ অনুভূতি দেয়: মেসি

লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলি অনেক ভারি। ফুটবলের শ্রেষ্ঠ...

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন খালেদা জিয়া

সশস্ত্র বাহিনীর দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন...

‘নিরাপদ’ টোকিওর ব্যস্ত সড়কে ২৭ লাখ ডলার হাতিয়ে নিলো ৩ অপরাধী

নিরাপদ শহর হিসেবে জাপানের রাজধানী টোকিওর সুনাম দীর্ঘদিনের। প্রায়...

হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে তামিমের নেতৃত্বেই যুব এশিয়া কাপে বাংলাদেশ

২০২৫ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের জন্য সোমবার ১৫ সদস্যের দল...