চলমান সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান আলি লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন।
তবে ‘সরব’ থেকেও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিগার এড়িয়ে এখনো জীবিত আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
পাকিস্তানের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র রয়টার্সকে জানান, ইসলামাবাদের অনুরোধেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারকে ‘হত্যা তালিকা’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র দাবি করেন, ‘ইসরায়েলিদের কাছে তাদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। তারা ওই দুই নেতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানাই, যদিও তাদেরকে হত্যা করা হয়, তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলিদেরকে পিছু হটতে বলে।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানের সামরিক ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে প্রথম বারের মতো এ বিষয়টির আভাস পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের ‘হত্যা তালিকা’ থেকে সাময়িকভাবে দুই শীর্ষ নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শান্তি আলোচনার উদ্যোগে তারা অবদান রাখতে পারেন—এমন ধারণা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তারা তালিকার বাইরে থাকবেন। তবে ওই প্রতিবেদনে পাকিস্তানের উল্লেখ নেই।
এর আগে জানা গেছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক।
ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয়ের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ইসলামাবাদ। এমন কী, আলোচনা চূড়ান্ত হলে সেটি ইসলামাবাদেও আয়োজন করা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে আসা ১৫ দফা প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছায়।
যুদ্ধ বন্ধের ওই প্রস্তাবে সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইউরেনিয়ামের মজুত সরানোর দাবি রয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কলেবর কমিয়ে আনা ও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাসের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সূত্ররা রয়টার্সকে এ কথা জানান।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘শান্তি চুক্তিতে যেতে মরিয়া হয়ে আছে ইরান।’
অপরদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, তেহরান আপাতত ওয়াশিংটনের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। তবে সংঘাত নিরসনের জন্য আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ নেই তাদের।