যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
আজ শুক্রবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে গিয়ে জামায়াতের পক্ষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
তারা দুজনেই ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদীর উপস্থিতিতে নিজ নিজ দলের পক্ষে এই হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এ সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য বা স্বার্থ কখনোই নিরপরাধ মানুষের জীবনহানিকে বৈধতা দিতে পারে না।’
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।
শোক বইয়ে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ঐক্য কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান বর্তমান পরিস্থিতি অতিক্রম করে দ্রুত স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং দেশটির সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
মামুনুল হকের সঙ্গে ছিলেন দলের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব ফরিদ খান।
শনিবার ইরানজুড়ে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার স্ত্রী-কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন।
ওই হামলার জেরে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। আছে শিশু ও সাধারণ নাগরিক।