বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নজরুলের অবস্থান পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই ক্ষোভ জানিয়েছেন।
নজরুল কিছুদিন আগে এই সিদ্ধান্তের দায়ভার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি নিজের আগের অবস্থানে ফিরে যান এবং জানান যে, বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল।
তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি।’
তবে নজরুলের এই ব্যাখ্যা ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ দূর করতে তেমন কোনো কাজে আসেনি। বরং তার এই ‘ইউ-টার্ন’ বা সুর পরিবর্তন করা নিয়ে যখন শুক্রবার সালাহউদ্দিনকে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান।
মিরপুরে সংবাদমাধ্যমকে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘উনি (আসিফ নজরুল) খাঁড়ার ওপরে এরকম মিথ্যা কথা বলবেন, এটা আমি ভাবতেও পারছি না। আমি কীভাবে ছেলেদের (ক্রিকেটারদের) সামনে মুখ দেখাব? উনি একজন শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন মানুষ। উনি এভাবে মিথ্যা বলবেন, এটা আমি আসলে মানতে পারছি না।’
তিনি যোগ করেন, ‘শিক্ষকরা তো একটু মিথ্যা কথা কম বলে। এটা আসলে আমরা মানতে পারছি না। কীভাবে মানব? এটা আমাদের বলার মতো না যে, উনি কী বলে আসলেন আর উনি কীভাবে ইউ-টার্নটা নিলেন।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘একটা মানুষের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন। আমি তো জানি, আমার দুইটা প্লেয়ার কোমায় (মানসিকভাবে বিপর্যস্ত) চলে গিয়েছিল। চার-পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল! তাদের যে আমরা টুর্নামেন্টে, মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি— ওটাই বেশি। আমার মনে হয়, এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য কোচিংয়ে আমার জীবনে।’
বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ বাংলাদেশ করেছিল, তা অনেক টানাপোড়েনের পর খারিজ করে দেয় আইসিসি। টাইগারদের বাদ দিয়ে তারা শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে বাংলাদেশকে ছাড়াই প্রায় ২৮ বছর পর মাঠে গড়িয়েছে কোনো বিশ্বকাপ।