জেসিন্ডা আরডার্ন, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নশীল দেশের মানুষ যখন ভাগ্য বদলাতে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার কথা ভাবেন, তখন খবর এলো দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভাগ্য বদলাতে ছেড়েছেন নিজের দেশ।
শুধু জেসিন্ডাই নয়, তার মতো আরও অনেকে নিউজিল্যান্ড ছেড়েছেন। কারণ, আয় কম; আবার ব্যয় বেশি।
আজ শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—গত ৪ বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কিউইদের দেশত্যাগের হার দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ, ১৮ হাজার থেকে হয়েছে ৪৩ হাজার।
প্রতিবেদন অনুসারে—নিউজিল্যান্ডে একদিকে যেমন বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে চাকরির বাজার। তাই তরুণদের দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী জেসিন্ডা আরডার্নও।
গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেসিন্ডা প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চলে গেছেন। শহরটির উত্তরে সাগর-ঘেঁষা অভিজাত এলাকায় তাদেরকে বাড়ি খুঁজতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে—স্বামী ব্লেয়ার ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড ছাড়ার সময় জেসিন্ডার সঙ্গে ছিল পাঁচটি স্যুটকেস। নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের বাড়ি বিনিময় করে তিনি মেলবোর্নে বাড়ি নিয়েছেন।
জেসিন্ডা সিএনএনকে বলেন, ‘কখনোই ভাবিনি ওয়েলিংটনের বাইরে গিয়ে থাকবো। নিউজিল্যান্ডের বাইরে থাকা তো দূরের কথা।’ নিজের দেশকে এখনো ভালোবাসেন জানিয়ে তিনি আরও বললেন, ‘পরিবার বড় হচ্ছে। জীবনবোধ বদলে যাচ্ছে।’
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে ছবির মতো সুন্দর নিউজিল্যান্ড অনেক ধনী মার্কিনির কাছে আকর্ষণীয়। সংঘাতপীড়িত বিশ্বে নিরাপদ দেশ হিসেবে তারা নিউজিল্যান্ডকে বসবাসের জন্য বেছে নেন।
এমন পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দাদের দেখা যাচ্ছে নিজ দেশ ছেড়ে যেতে। তাও আবার প্রায় রেকর্ড-হারে।
কিউইদের বিদেশে পাড়ি জমানো কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে তাদের দেশত্যাগের হার আগের বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এর আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি মানুষ নিউজিল্যান্ড ছেড়েছেন। এর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার। ২০১২ সালের তুলনায় এই সংখ্যাটা বিশাল।
নিয়মিতভাবে ২০-এর কোঠায় থাকা তরুণরা নিউজিল্যান্ড থেকে বের হয়ে যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ায় জীবন কাটানোর কথা চিন্তা করেন। নিউজিল্যান্ডের সরকারি তথ্য বলছে, অবসর নেওয়া মানুষরাও এখন তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন।
ওয়েলিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্র্যাড ওলসেন ঘটনাটিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আর্থিক টানাপড়েনের কারণে ৪০-এর কোঠায় থাকা মানুষও দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় জেসিন্ডার ডেটা ইঞ্জিনিয়ার স্বামী ব্লেয়ারের বেতন নিউজিল্যান্ডের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি হবে বলে তারা সেখানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, জেসিন্ডার সন্তানরা নিউজিল্যান্ডের তুলনায় কম খরচে অস্ট্রেলিয়ায় পড়ালেখা করতে পারবে। সেখানে তাদের বাজার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় নিউজিল্যান্ডবাসীদের থাকার ও কাজের অনুমতি আছে বলে সেখান থেকে বাসিন্দারা ব্যাপকহারে প্রতিবেশী দেশটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন।
সিএনএন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে যে, নিউজিল্যান্ড বাসিন্দাদের কেউ কেউ ইংল্যান্ড, কেউ স্কটল্যান্ড, কেউ স্পেন, এমনকি কেউ কেউ কাতার, আবুধাবি ও তুরস্কে থাকার চিন্তা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রেও চলে যাচ্ছেন কেউ কেউ।
তবে নিউজিল্যান্ডারদের মধ্যে যারা দেশ ছাড়ছেন তাদের প্রায় ৬০ শতাংশই যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ায়।
নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।