এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিব্রতকর বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে হোয়াইট বল ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিধর দল অস্ট্রেলিয়া। টানা দুই ভয়াবহ পরাজয়ে তাদের দাপুটে ভাবমূর্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে, বিশেষ করে মূল পেস বোলারদের অনুপস্থিতি নির্মমভাবে ধরা পড়েছে দলটি।
প্রথম ধাক্কা আসে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১ নম্বরে থাকা জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানের অপ্রত্যাশিত হারে। এরপর সহ–স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ক্যান্ডিতে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রায় বিদায়ের কিনারায় ঠেলে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। নিজেদের ভাগ্য আর নিজেদের হাতে নেই। তাদের টিকে থাকতে হলে জিম্বাবুয়েকে হারাতে হবে ১২ নম্বরে থাকা আয়ারল্যান্ডকে। এরপরও কাজ শেষ নয়, সুপার এইটে উঠে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে আবার জিম্বাবুয়েকেও পরাজিত করতে হবে। তবেই ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার আশা বেঁচে থাকবে।
অধিনায়ক মিচেল মার্শ ক্যান্ডিতে সাংবাদিকদের বলেন, “এখনো সুযোগ আছে… তবে কী বলব? সবই যেন আইরিশদের ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে।”
অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের সাফল্যের ভিত্তি ছিল তাদের বিশ্বমানের পেস আক্রমণ। কিন্তু এবার সেই শক্তিই নেই। বাঁহাতি কিংবদন্তি মিচেল স্টার্ক টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নিয়েছেন। অন্য দুই প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড চোটের কারণে ছিটকে গেছেন।
এক দশকের বেশি সময় পর এটি প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে এই তিনজনের অন্তত একজনও দলে নেই। বিকল্প পেসাররা, বিশেষ করে নাথান এলিসের নেতৃত্বে আক্রমণ, নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। অন্যদিকে অভিজ্ঞ লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উইকেটহীন থেকে মার খেয়েছেন।
ব্যাটিংয়েও ভরাডুবি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুটা দারুণ ছিল, মার্শ ও ওপেনার ট্রাভিস হেড মাত্র ৮.৩ ওভারে ১০৪ রান তুলে ফেলেন। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপর্যয়। স্পিনের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে পুরো দল। মাত্র ৭৭ রানের মধ্যে পড়ে যায় শেষ ১০ উইকেট।
ইনজুরি ছাড়াও তড়িঘড়ি প্রস্তুতি ও দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। ঘরোয়া বিগ ব্যাশ লিগ দীর্ঘ হওয়ায় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি সিরিজে দেরিতে যোগ দেন এবং সেখানে ৩–০ ব্যবধানে হেরে বসে দল। সেই দুর্বল ফর্ম বিশ্বকাপেও অব্যাহত রয়েছে।
অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে শুরুতে স্কোয়াডেই রাখা হয়নি, যদিও বিগ ব্যাশে তিনি প্রায় ৬০ গড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। ইনজুরির কারণে পরে তাকে দলে নেওয়া হলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়নি। একইভাবে ম্যাট রেনশও বাদ পড়েন, যদিও তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬৫ এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ রান করেছিলেন।
মার্শ জানান, নিজের ফেরার জন্যই রেনশকে বাইরে রাখা হয়েছে। তবে কেন অন্যরা জায়গা ধরে রাখলেন, সে প্রশ্ন উঠছে। ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস স্টয়নিস ও টিম ডেভিড এই তিন অলরাউন্ডারের কেউই দুই ম্যাচে এক অঙ্কের রানও করতে পারেননি।